প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪১ পিএম
ছবি: যাযাদিচট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে নিখোজের চার দিন পর গৃহবধূ নুপুর আক্তারের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান গাজীপুরের কালীগঞ্জে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ২২ বছর বয়সী নুপুর গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত তিন টার দিকে দক্ষিণ সরফভাটা ইউনিয়নে নিজের শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোজ হন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তার মা ডেইজি আক্তার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর ১৪৯) করেন। নিখোজ গৃহবধূর অবস্থান শনাক্তের পরও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নুপুরের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া গ্রামের একটি ক্যাথলিক গির্জার কাছে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রাঙ্গুনিয়া থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরের ওই এলাকায় তার মোবাইলের অবস্থান কীভাবে শনাক্ত হলো, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নুপুরের পরিবারের সদস্যরা তার নিখোজ হওয়ার পেছনে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। নুপুরের স্বামী কামাল উদ্দিন মোস্তফার দাবি, তাদের পরিবারে এমন কোনো দ্বন্দ্ব বা নির্যাতনের ঘটনা ছিল না, যার কারণে নুপুর বাড়ি ছেড়ে যেতে পারেন। তার ধারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুপুরের সক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র তাকে প্ররোচিত করে নিয়ে যেতে পারে।
কামাল উদ্দিন বলেন, বাড়িতে আমার মা ছাড়া আর কেউ থাকেন না, তাই নির্যাতনের প্রশ্নই ওঠে না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে বলেই আমরা মনে করছি। পরিবারের অভিযোগ, গাজীপুরের কালীগঞ্জে নুপুরের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর তাকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে সেখানে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাওয়া যায়নি। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নুপুরের মা ডেইজি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ের নিখোজ হওয়ার পেছনে জামাতার অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তার দাবি, কৌশলে নুপুরকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তার কাছে প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন জানান, গত ১৫ অক্টোবর নুপুরের সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তখন নুপুর অভিমান করে বাড়ি ছেড়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে তার মা দাবি করেছেন, ফোনে কথা বলা ব্যক্তির কণ্ঠ তার মেয়ের ছিল না।
ওসি জানান, নুপুরের অবস্থান শনাক্ত ও তাকে উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে। পরিবারের সদস্যরা গাজীপুরে গিয়ে তাকে না পেয়ে ফিরে এসেছেন। তারা এলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। নুপুরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং তার নিখোজ হওয়ার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছে পরিবার।