খাগড়াছড়িতে অর্ধদিবস অবরোধের মধ্যে বন্দুক হাতে পাহাড়ি তরুণের মহড়া, ভিডিও ভাইরাল

যাযাদি অনলাইন

সারাদেশ

পার্বত্য চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সমর্থিত ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে অর্ধদিবসের সড়ক ও নৌপথ

2026-10-24T20:32:10+06:00
2026-10-24T20:35:47+06:00
শনিবার ● ২৪ অক্টোবর ২০২৬
৮ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
খাগড়াছড়িতে অর্ধদিবস অবরোধের মধ্যে বন্দুক হাতে পাহাড়ি তরুণের মহড়া, ভিডিও ভাইরাল
যাযাদি অনলাইন
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩২ পিএম  আপডেট: ২৪.১০.২০২৬ ৮:৩৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
পার্বত্য চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সমর্থিত ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে অর্ধদিবসের সড়ক ও নৌপথ অবরোধ শেষ হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এদিকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় মোটরসাইকেলে করে একাধিক ব্যক্তির অস্ত্র নিয়ে মহড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার বাইল্যাছড়ি এলাকায় মোটরসাইকেলে কয়েকজনকে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা ও এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আমিনুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালিত হয়েছে। তবে বাইল্যাছড়ি এলাকায় মোটরসাইকেলে অস্ত্র নিয়ে মহড়ার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাজেকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে হামলা, লাঠিপেটা এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

অবরোধ শেষ হওয়ার পর দুপুর ১২টা থেকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অবরোধ চলাকালে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে কয়েকটি স্থানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী ব্রিজ ও স্বনির্ভর এলাকা, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের কৃষি গবেষণা এলাকা এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের গুইমারা জোড়াব্রিজ এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের সাপমারা এলাকায় গাছ কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল।

রাঙামাটি শহরের বনরূপা ও কল্যাণপুর বাজারসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কেও দূরপাল্লার যানবাহন চলেছে। তবে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে সকাল থেকে যান চলাচল বন্ধ ছিল। সাপছড়ি খামারপাড়া ও কুতুকছড়ি ধর্মঘর এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করা হয়। কুতুকছড়ি হাফ বাজার থেকে ধর্মঘর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলও বের করা হয়। দুপুর ১২টার পর এ সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির লাইনম্যান বিশ্বজিৎ দে বলেন, নৌপথে অবরোধের কোনো প্রভাব পড়েনি। লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

অবরোধের ডাক দেওয়া ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা বলেন, তাঁদের আহ্বানে সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবি ও অধিকার উপেক্ষা করা হলে এবং তাঁদের ওপর লাঠিপেটা ও গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা ঘটলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। আপাতত অবরোধ কর্মসূচি শিথিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, অবরোধকে কেন্দ্র করে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীরা ব্যারিকেড দিয়েছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল চাকমার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগঠন এবং খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির যানবাহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন এবং সাংবাদিকদের গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত রাখার কথা জানানো হয়।

এর আগে গত বুধবার সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন তিন দফা দাবিতে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয়। সংগঠন দুটির এটি তৃতীয় দফার অবরোধ। তাদের অন্যতম দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (সন্তু লারমা-সমর্থিত জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া।

অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পর্যটকেরা সাজেক ছাড়তে শুরু করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে সাজেকের গঙ্গারামস্থ উজুবাজার এলাকায় অবরোধের কারণে প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পরে তাঁদের নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছে দেয় সেনাবাহিনী ও পুলিশ।
সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত