ছবি: যাযাদিখুলনা অঞ্চলের মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ডাকাতি প্রতিরোধ ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। অপরাধ দমনে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মহাসড়কসংলগ্ন ব্যাংক, এটিএম বুথ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদারেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে সরকারি যানবাহনের সংকট থাকায় দায়িত্ব পালনে ভোগান্তিতে পড়ছেন পুলিশ সদস্যরা। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়ায় চালিত পিকআপ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে তাদের।
খুলনা হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ জাকারিয়া দৈনিক যায়যায়দিনকে জানান, খুলনা রিজিয়নের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে বর্তমানে প্রায় ৩৪০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। মহাসড়কে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের বর্তমান কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন, নাকি আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, তা জানতে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।
অতীতে মহাসড়কে গাছ ফেলে এবং অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে দূরপাল্লার যানবাহনে ডাকাতির অভিযোগে তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় ব্যাংকের এটিএম বুথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছুতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে অস্ত্র এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ঘাটতি রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হাইওয়ে পুলিশ।
বিশেষ করে রাতে এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মহাসড়কসংলগ্ন ব্যাংক, এটিএম বুথ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খুলনা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মহাসড়কে ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের চলাচল সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ডুমুরিয়া উপজেলা জাসাসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. তুহীন সরদার বলেন, বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। তার ধারণা, আগের তুলনায় মহাসড়কে বড় ধরনের অপরাধের ঘটনা কম চোখে পড়ছে। তবে ছোট ছোট যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুকি বাড়ছে। এসব যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
খুলনা জেলার নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের আহ্বায়কও মহাসড়কে ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সরকারি যানবাহন সরবরাহ, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং ছোট যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি যানবাহনের সংকটের কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছানো এবং নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় পুলিশ সদস্যদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ সংকট দূর করা গেলে মহাসড়কে টহল ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যাপ্ত যানবাহন সরবরাহ, নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মহাসড়কে চলাচলকারী ছোট যানবাহনের বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলের সড়কে দুর্ঘটনা ও অপরাধের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জননিরাপত্তা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।