প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
নিহত যুবদল নেতা শাকের হোসেনমাগুরায় বাস টার্মিনালে দিনের আলো ফোটার আগেই প্রকাশ্যে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং রয়েল পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার শাকের হোসেনকে (৪০) মাথার পেছনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে পাচটার সময় শহরের পারনান্দুয়ালী বাস টার্মিনালের রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে কাজ করার সময় এই ঘটনা ঘটে। নিহত শাকের শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকার মৃত: কুতুব উদ্দিনের ছেলে।
প্রথমে স্বাভাবিক বা অসুস্থতাজনিত মৃত্যু মনে করা হলেও, মরদেহ গোসলের সময় মাথার পেছন দিকে ক্ষতচিহ্ন (ছিদ্র) দেখে রহস্য ঘণিভূত হয়। পরে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরবর্তীতে ময়না তদন্তে তাঁর মাথার খুলির ভেতরে থেকে একটি বুলেট পাওয়ার বিষয়টি এদিন বিকালে সামনে আসে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোর পাঁচটার দিকে কাউন্টারে যান শাকের। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে একটি সাইলেন্সার পাইপবিহীন মোটরসাইকেলে করে দুইজন দুর্বৃত্ত কাউন্টারের সামনে আসে। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের বিকট শব্দের সুযোগ নিয়ে পেছনের আরোহী কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে শাকেরের মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে শাকেরকে অচেতন অবস্থায় মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রথমে পরিবারের সদস্যরা এটিকে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকজনিত মৃত্যু মনে করে মহদেহ বাড়িতে নিয়ে গোসলের প্রস্তুতি নেয়ার সময় রক্ত গড়িয়ে পড়তে ও মাথার পেছনে ক্ষত (ছিদ্র) দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় এবং ময়না তদন্তে খুলির ভেতর বুলেট পাওয়া যায়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন খান, মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এবং বিএনপি নেতারা হাসপাতালে ছুটে যান। নেতৃবৃন্দ এ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ‘টার্গেট কিলিং’ দাবি করে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এদিকে, এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিএনপি নেতাকর্মী ও মটর শ্রমিকরা রাজপথে মিছিল ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সাময়িক অবরোধ করেন।
অন্যদিকে, নিহত শাকেরের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী শারমিন আক্তার রুমার আহাজারিতে, প্রতিবেশি-স্বজন; সবাই যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তিনিও অবিলম্বে স্বামীর খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, আলামত সংগ্রহসহ পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নেমেছে। সিসিটিভির অডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জোরাল তদন্ত চলছে এবং খুব শীঘ্রই এই হত্যাকান্ডে মূল রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছে পুলিশ।