জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অভিযোগ যুবদল নেতার

খুলনা ব‌্যু‌রো

সারাদেশ

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সিকে নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো

2026-10-22T18:14:41+06:00
2026-10-22T18:14:41+06:00
বৃহস্পতিবার ● ২২ অক্টোবর ২০২৬
৬ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
বটিয়াঘাটা বিএনপি, মসজিদ, মন্দির ও বাজার কমিটির নিন্দা
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অভিযোগ যুবদল নেতার
খুলনা ব‌্যু‌রো
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পিএম  
যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সি
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সিকে নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা চলছে। উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মসজিদ, মন্দির ও বাজার কমিটির নেতারা একযোগে এঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অনতিবিলম্বে এই অপপ্রচার বন্ধ করা না হলে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচির গ্রহণ করা হবে বলে তারা জানান।

বাহাদুর মুন্সি বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ৪ বছর ধরে। তিনি যখন এই পদ পান, তখন মামলা ও হয়রানির আতঙ্কে কেউ পদ নিতে চাইতো না। অথচ অভিযোগ তোলা হয়েছে অর্থের বিনিময়ে বাহাদুর পদ বাগিয়ে আনেন। বাহাদুর বলেন, ১নং জলমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা দেয়ায় ক্ষুব্দ একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।

 বিগত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। বর্তমান সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলায় আমার নামও যুক্ত করা হয়েছে। একদা পুলিশ গুম করার জন্য বটিয়াঘাটা থেকে তুলে নিয়ে রূপসা থানার নাশকতা মামলায় চালান দেয়। 

এদিকে দলের এই ত্যাগী নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক এজাজুর রহমান শামীম ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন খন্দকার। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা, প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে সত্য তুলে ধরার আহবান জানান।
চক্রাখালী গজালমারী সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তন্ময় রায় বলেন, দূর্গাপূর্জা উৎসব যেন নির্বিঘ্নে উদযাপন হয়, সেজন্য বাহাদুরের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতোন। অথচ তার মতোন মানুষের নামে নানান অপপ্রচার চলছে, যা অন্যায়।

চক্রাখালী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসিম বিশ^াস বলেন, এই লোক (বাহাদুর মুন্সী) না থাকলে ৫ আগস্ট পরবর্তী আমাদের এই বাজার লুটপাট চালিয়ে তছনছ করে ফেলতো দূর্বৃত্তরা। তিনি তখন জেলে ছিলেন এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসারীদের পাঠিয়ে দিতেন। তখন প্রায় প্রতি রাতেই তার লোকজন বাজারটা পাহারা দিয়ে রেখেছেন। জেল থেকে বেরিয়ে বাজার কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেন বলেই আজ আমরা শান্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করছি। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বাজারের ৭টি দোকান দখলের, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

চক্রাখালী মোড়স্থ বায়তুল মামুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, ২২ বছর এখানে বসবাস করি, যতদূর দেখেছি, বাহাদুর মানুষের উপকার করে, তার মাধ্যমে ক্ষতির শিকার হয়েছে-এমন কাউকে পাইনি। তিনিও অপপ্রচারকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
জলমা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পান্নু মিয়া বলেন, তেতুলতলা এলাকার মরিয়মের ২৫ শতক জমি দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। অথচ এই নামে কোন নারীকে পাওয়া যায়নি। 

অনুরুপ বাহাদুরের ভাই বাদশা ভাড়া নিয়ে চায়ের দোকান চালালেও অভিযোগ তোলা হয় দখলের। আবার বিভাস গোলদারের নাম নিয়েও মিথ্যাচার করা হয়েছে।
বটিয়াঘাটার রাঙ্গেমারী এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে বাহাদুর মুন্সির বক্তব্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেই তিনি ৮ শতক জমি কিনেছেন এবং আরএস পৃথক খতিয়ান নং ২৬৭৭৬৪, দাগ নং ২১৬৩, খাজনা দাখিলা দিয়ে জমির দখল বুঝে নিয়েছেন। 

বর্তমান বিডিএ জরিপে  আবুল হোসেনের নামে রেকর্ড হয় খতিয়ান নং ১০৮২৮, দাগ নং ১১০৭৩ বুজরত খতিয়ান উল্লেখ করে দলিল করে ভোগদখলে আছেন। 
প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ ইমাম হাসান বাচ্চুর ছেলে ইসতিয়াক হাসান ও তার মা নাছিমা হাসান জমি দখলের চেষ্টা ও স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। শুধু অভিযোগ তুলেই তিনি ক্ষান্ত হননি, নানা কল্প-কাহিনী জুড়ে দিয়ে অনৈতিক উপায় অবলম্বন করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন করিয়েছেন।

 অথচ তাকে বারবার এনিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করার অনুরোধ জানালেও কাজ হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য বিষয়টি অবগত আছেন এবং তার কাছে একাধিকবার দুই পক্ষের হাজির হবার কথা থাকলেও নাসিমা হাসান সেখানে আসেননি।

বাহাদুর মুন্সির ভাষ্য, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। তাঁর দাবি, জমির কাগজপত্রের বৈধতা ও মালিকানার প্রশ্ন আইনগতভাবে যাচাই করা হোক। খুলনা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ সংক্রান্ত মামলা চলমান আছে। 

আদালতের নির্দেশ মোতাবেক তদন্ত কর্মকর্তা ‘বাহাদুর মুন্সি ক্রয়কৃত জমি দখলে আছেন মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। 

বাহাদুর মুন্সি বলেন, জমি কেনা ও দখল বুঝে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একতরফাভাবে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, জমির দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্রের ভিত্তিতেই তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। তিনি আরও দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত