ছবি-যাযাদি ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের বাসস্থান উচ্ছেদ ও মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে আজ ২৩ অক্টোবর(২০২৬) শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আইয়াম (রাইয়ান)-এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিবুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির রায়হান রিপন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নাঈম আবেদীন। এ সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, “সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ভারত আমাদের অসাম্প্রদায়িকতার সবক দিতে আসে। ভারতের হিন্দুত্ববাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী, যাদের কাছে কোনো সংখ্যালঘুই নিরাপদ নয়, তাদের কাছ থেকে আমাদের কোনো সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ভারত এই অঞ্চলের নতুন ইসরায়েলে পরিণত হয়েছে। তারা বর্ণবাদী নীতি ব্যবহার করে ইসরায়েলি কায়দায় জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ভারতের তাবেদারি বন্ধ করে সীমান্তে পুশ-ইন ও বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে মুসলিম নিধনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা পৃথিবীর সব নিপীড়িত ও নির্যাতিত জাতির কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে।”
জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিবুল ইসলাম বলেন, “উগ্র হিন্দুত্ববাদের কালো ছায়া থেকে ভারতের মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান ও নিম্নবর্গের হিন্দুদের বাঁচাতে হবে। সংখ্যালঘু দমনে বিজেপি সরকার ইসরায়েলের অনুসরণ করছে।”
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসামে মুসলমানদের বাড়িঘর ও মসজিদ ভাঙচুরের মাধ্যমে ভারতের মুসলমানদের বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইন ও গণহত্যার নীলনকশা তৈরি করা হচ্ছে। বিজেপি সরকার মুসলিম নির্যাতন বন্ধ করে নাগরিকদের সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।”
তিনি বিজেপি সরকারের বর্ণবাদী আচরণের প্রতিবাদে ভারতের জেন-জি-কে রাজপথে আন্দোলন ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এ সময় বক্তারা ভারতের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, ভোট ম্যানিপুলেশনের জন্য ভিন্নমতের মানুষের ভোটাধিকার হরণ এবং জাতিগত নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নতজানু নীতি পরিহার করে অবিলম্বে জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং সীমান্তে পুশ-ইন বন্ধে শক্তিশালী ভূমিকা পালনের দাবি জানান তাঁরা।