ওসমানীনগরে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আড়াল করতে কোটি টাকার পাল্টা অভিযোগ

ওসমানীনগর প্রতিনিধি

সারাদেশ

ওসমানীনগর উপজেলার মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে অভ্যন্তরীণ আধিপত্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কমিটির পদ-পদবি ও কর্তৃত্ববাদ নিয়ে মতবিরোধ, গুষ্টিগত

2026-10-23T19:42:33+06:00
2026-10-23T19:42:33+06:00
শুক্রবার ● ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৭ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
ওসমানীনগরে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আড়াল করতে কোটি টাকার পাল্টা অভিযোগ
ওসমানীনগর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪২ পিএম  
ছবি-যাযাদি
ওসমানীনগর উপজেলার মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে অভ্যন্তরীণ আধিপত্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কমিটির পদ-পদবি ও কর্তৃত্ববাদ নিয়ে মতবিরোধ, গুষ্টিগত দন্ধ, মনগড়া বিদ্যালয় পরিচালনাসহ নানা অভিযোগে দীর্ঘদিন থেকে সমালোচনায় রয়েছে বিদ্যালয়টি। প্রকৃত দাতা সদস্যদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে মনোনীত ব্যক্তিদের আজীবন দাতা সদস্য নির্বাচন, অর্থ আত্মসাতসহ বিস্তর অভিযোগ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। ২৮ সেপ্টেম্বর নতুন আজীবন দাতা সদস্যদের ৬০লক্ষ টাকার হিসাব চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত অভিযোগ ও আবেদন প্রেরণে গঠন হয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে ৮অক্টোবর এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে পাল্টা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে রয়েছে অভিযোগ। বিদ্যালয়ের আর্থিক বিষয় নিয়ে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ফলে নস্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ।  
     
জানা গেছে, ১৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে অ্যাডহক কমিটিকে না জানিয়ে অর্থ আত্মাসাৎ করতে নীতিমালা লঙন করে বিদ্যালয়ে নতুন ২০জন দাতা সদস্য মনোনিত করা হয়। ২৪সেপ্টেম্বর নতুন ২০জন আজীবন দাতা সদস্যদের তালিকা বিদ্যালয়ে টানানো হলে দেখা যায় একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে আজীবন দাতা সদস্য মনোনিত করা হয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল মন্নান ও তার স্ত্রী, মাসুক আলী ও তার পিতা, আব্দুস সালাম এবং তার স্ত্রীকে আজীবন দাতা সদস্য মনোনিত করা হয়। কিন্তু বৈধভাবে আজীবন দাতা সদস্য মনোনিত হওয়া আমিনুল হক রিপন, আব্দুল করিম, সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল লেইসকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। 
    
এদিকে, নতুন ২০জন আজীবন দাতা সদস্যসের অর্থ বিদ্যালয় তহবিলে রয়েছে কী না? তা প্রকাশ করতে ২৮সেপ্টেম্বর এলাকাবাসীর পক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্র্র্র্তৃপক্ষের নিকট পৃথক আবেদন ও অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণধীর মোহন দেবকে শোকজ করা হলে ১১অক্টোবর তিনি লিখিতভাবে জবাব প্রদান করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০সেপ্টেম্বর সিকন্দরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিপন সূত্রধর, কেএ জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ ও নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামানকে নিয়ে ৩সদস্যের তদন্ত কমটি গঠন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও ২৩দিন অতিবাহিত হলেও সংম্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেয়া হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন। সুত্র জানায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণধীর মোহন সিনিয়ির শিক্ষক হওয়ায় জুনিয়র শিক্ষকদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করায় তারা তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করছেন। 
     
অভিযোগ রয়েছে, অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তদন্তকালে আজীবন দাতা সদস্যদের তালিকা মুছে শুধু দাতা সদস্যদের তালিকা টানানো হয়। ৬০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আড়ালের ফন্দি করে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত করতে দুইবার হিসাব প্রদান করাপরও আবারও হিসাব চেয়ে ৮ অক্টোবর এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে দেয়া হয় পাল্টা অভিযোগ।
    
অভিযোগ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ও প্রবাসীদের উদ্যোগে ২০২০সালে প্রতিষ্ঠাকালিন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন আব্দুল খালিক ও প্রধান শিক্ষক করা হয় একই গ্রামের আবুল লেইসকে। ২০২১সালে আব্দুল খালিক যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমালে বিধি মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হন ইউপি সদস্য শামছুল ইসলাম শামীম। ২০২৪ সালের জুন মাসে প্রধান শিক্ষক আবুল লেইস ছুটি নিয়ে কানাডা যান। যাওয়ার আগে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রদান করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয় সহকারী শিক্ষক বশির মিয়াকে। তিনি বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করে প্রধান শিক্ষক আবুল লেইসের দেওয়া আয়-ব্যয়ের হিসাবও প্রকাশ করেন। ক্ষমতা পাওয়ায় বশির মিয়া নিজের ইচ্ছেমত বিদ্যালয় পরিচালা করতে শুরু করেন। পরিচালনা কমিটির সভাপতি পরিবর্তন করে নিজের মনোনিত ব্যক্তিকে সভাপতির পদে বসান। এতে বিভিন্ন অনিয়ম দেখা দিলে স্থানীয়দের তোপের মুখে নিজের মনোনিত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করান তিনি। প্রধান শিক্ষক আবুল লেইস পুনরায় বিদ্যালয়ে আসলে দেখতে পান আরও একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হতাশ হয়ে ফের প্রবাসে চলে যান তিনি। প্রধান শিক্ষক ছানা উল্লা দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয়দের নানা প্রশ্নে জর্জরিত হন। বশির মিয়ার বিভিন্ন অনিয়ম সামনে আসলে তা আড়াল করতে আবারও বিগত সময়ের হিসেব চাওয়া হয়। বিদ্যালয়ে সভায় পুনরায় আবুল লেইসের হিসাব প্রদান করেন সাবেক সভাপতি শামছুল ইসলাম শামীম। 
   
অভিযোগ রয়েছে, নিজ এলাকায় বিদ্যালয় হওয়ায় বশির মিয়ার নানা অনিয়ম ঠেকাতে ব্যর্থ হন প্রধান শিক্ষক ছানা উল্যা। নিরুপায় হয়ে চলতি বছরের শুরুতে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি। প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন রণধীর মোহন দেব। ছানা উল্লার মতো না থেকে বশির মিয়ার ফাঁদে পা দেন রণধীর। বিদ্যালয় পচিালনার অর্থ যুক্তরাজ্য থেকে যোগান দেওয়া হলেও নানা অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ হন প্রবাসীরা। মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয় বাস্থবায়ন কমিটি ইউকের সদস্যরা এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার যুক্তরাজ্যে সভা করেন। তৎকালীন কমিটির সভাপতি ফজল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ খুকন নানা দিক নির্দেশনা দিলেও বিদ্যালয়ে সুষ্টু ব্যবস্থাপনার পরিবেশ ফিরে আসেনি। বশির মিয়ার ইন্ধনে যুক্তরাজ্যে বাস্তবায়ন কমিটি ভাঙন ধরে এবং অন্যান্যদের নিয়ে আরেকটি মনগড়া কমিটি গঠন করা হয়। ক্লাস বন্ধ রেখে যুক্তরাজ্যে গঠিত বিতর্কিত মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয় উন্নয়ন কমিটির তালিকা প্রকাশে অনাস্থা এনে ৩০-৪০ জন অভিভাবক, ভূমিদাতা ও দাতা সদস্য সভাস্থল ত্যাগ করেন।
          
এলাকার সচেতন শিক্ষানুরাগীরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় ফজল উদ্দিন বিদ্যালয় বাস্তবায়ন ও পরিচালনা কমিটি ইউকের সভাপতি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল খালিকের পরিবারের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ে ২৬ শতক, তার ভাই আলাউদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৫ শতক ভূমি এবং বিদ্যালয়ের তিনটি ভবন প্রতিষ্ঠায় ব্যয় বহনসহ আর্থিক সহায়তা দিলেও তাদের বিরুদ্ধে সাজানো অভিযোগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করা হচ্ছে।
      
এছাড়া, অ্যাডহক কমিটি থাকার পরও প্রবাসীদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে বাণিজ্য করতে বিদ্যালয় উন্নয়ন কমিটির নামে আরেকটি কমিটি গঠনের পর থেকে বিদ্যালয়ে আরও চরম অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় শেল্টার নিতে কমিটিতে মানিক মিয়াকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠেছে। 
        
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ইউপি সদস্য শামছুল ইসলাম শামীম বলেন, আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৪১শতক ভূমি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় দান করি। আমাদের আত্মীয় স্বজনরা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ২বছর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করেন। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে মানিক মিয়াসহ একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। বিদ্যালয় দখল করে সকল কাগজপত্র গায়েব করে বর্তমানে আজীবন দাতা সদস্য সংগ্রহ করে ৬০ লক্ষ টাকা তারা আত্মসাৎ করেছেন। আমিসহ এলকাবাসী ওই অর্থের হিসাব চাইলে তদন্ত ভিন্ন দিকে নিতে এবং অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানি না হওয়ার জন্য তারা পাল্টা সাজানো অভিযোগ দিয়ে আমার ও আমার পরিবারের সদস্যসহ এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিদের মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে। এবিষয়ে আমরা আইনি প্রতিকার চাইবো।  
       
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণধীর মোহন দেব বলেন, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আজীবন দাতা সদস্য নির্বাচিত করা হবে। তদন্তকালে আজীবন দাতা সদস্যের তালিকা সরিয়ে দাতা সদস্যের তালিকা টানানোর বিষয়ে তিনি বলেন, কে বা কারা এটা করেছে তা আমার জানা নেই।   
      
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কেএ জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন, সরজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। লিখিতভাবে তা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে। তবে, বিদ্যালয়ে শুধু মাত্র দাতা সদস্যদের তালিকা পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। 
       
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদিউজ্জামান আহমদ বলেন, তদন্ত কমিটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, ৮অক্টোবর পাল্টা অভিযোগ দেওয়ার বিষটি জানা নেই।
সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত