প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম
সংগৃহীত ছবিপাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দড়িভাউডাঙ্গা এলাকায় পদ্মা হাসপাতালের পাশে অবস্থিত একটি নুরানী মহিলা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আবু ইউসুফ পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি ওই মহিলা মাদরাসার পরিচালক ছিলেন। মাদরাসাটিতে প্রায় দেড়শ ছাত্রী পড়াশোনা করে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের আজানের আগে এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হলে শিক্ষক ইউসুফ তাকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওই ছাত্রীর। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ জন্য চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হতো বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো বলেও অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। মাদরাসার আরো কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তার। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযুক্ত শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন ওই ছাত্রী।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগও তুলেছেন তার স্ত্রীর স্বজনেরা। তাদের দাবি, পরকীয়ার জেরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পাবনার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।