
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়লেও দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় কোনো সংকট তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
তিনি বলেছেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করা হয়েছে। একই সঙ্গে অসাধু চক্রের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা ঠেকাতে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সিএসআর তহবিলের সহযোগিতায় প্রতিকূল আবহাওয়ায় কর্মরত চা-শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, গত ২০ দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও লাইট সুইট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০-৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলা (সাপ্লাই চেইন) নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি যাতে না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এফএসআরইউর যান্ত্রিক ত্রুটি কেটে যাওয়ায় সয়াবিন তেল রিফাইনারি ও চিনি প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলো পূর্ণ উদ্যমে উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।
কোনো অসাধু চক্র যাতে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম নিতে না পারে, সে জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে পণ্য পাচার ঠেকাতে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে।
চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, চা-বাগান এলাকায় দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থার সংকট নিরসনে সরকার সুনির্দিষ্ট ও টেকসই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, ফয়সল আহমদ চৌধুরী, মাহবুব কাদির শাহী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ আহমদ, টুকেরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চা-বাগান ব্যবস্থাপক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।