শ্যামনগরে বাঁধ কেটে লবণ পানি প্রবেশ, হুমকিতে কৃষি ও বেড়িবাঁধ

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১১নং পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসিয়ে নদীর লবণ পানি ওঠানো

2026-10-03T12:58:40+06:00
2026-10-03T12:58:40+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
শ্যামনগরে বাঁধ কেটে লবণ পানি প্রবেশ, হুমকিতে কৃষি ও বেড়িবাঁধ
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম  
ছবি-যাযাদি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১১নং পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসিয়ে নদীর লবণ পানি ওঠানো নামানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে চাউলখোলা ও খুটিকাটা এলাকায় এ ধরনের নাইন্টি পাইপ বেশি রয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধের ভেতর দিয়ে এসব পাইপ বসিয়ে নদী থেকে লবণ পানি চিংড়ি ঘেরে প্রবেশ করানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আবার নদীতে বের করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে পাইপ বসানো স্থানগুলোতে বেড়িবাঁধ দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের ধান ও মিষ্টি পানির মাছের জমিতে লবণ পানি প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

চাউলখোলা ও খুটিকাটা এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু কিছু স্থানে অল্প দূরত্বের মধ্যেই একাধিক পাইপ দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে পানি ওঠানো-নামানোর কারণে পাইপের আশপাশের মাটি ও বাঁধের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।

এ এলাকার মানুষের জন্য বেড়িবাঁধ শুধু নদীর পানি ঠেকানোর অবকাঠামো নয়-অনেক স্থানে এটিই মানুষের প্রধান চলাচলের রাস্তা। ফলে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে একই সঙ্গে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি এবং যোগাযোগব্যবস্থার দুর্ভোগ বাড়তে পারে।

কুটিকাটা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা কৃষ্ণপদ মন্ডল বলেন, আমরা চাই ঘেরও থাকুক, কৃষিও থাকুক। কিন্তু একজনের লবণ পানির ঘেরের কারণে যেন অন্য মানুষের ধান ও মিষ্টি পানির মাছের ক্ষতি না হয়। সরকারি বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসানো হয়ে থাকলে প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক।

অভিযোগে আরেকজন কৃষক প্রদীপ কুমার বলেন, চাউলখোলা ও খুটিকাটার কোথায় কতগুলো নাইন্টি পাইপ আছে, প্রশাসন সরেজমিনে এসে হিসাব করুক। কোনটির অনুমোদন আছে আর কোনটির নেই, সেটাও প্রকাশ করা হোক।

এলাকাবাসীর দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে চাউলখোলা ও খুটিকাটাসহ পুরো পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হোক। অনুমোদনহীন পাইপ পাওয়া গেলে সেগুলো অপসারণ করে কাটা বাঁধ যথাযথভাবে মেরামত এবং ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া বাঁধ কাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি দুর্বল স্থান দিয়ে নদীর পানি প্রবেশ করলে ক্ষতি শুধু একটি ঘের বা জমিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না ঝুঁকিতে পড়তে পারে আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও মানুষের চলাচলের রাস্তা।

এলাকাবাসীর দাবি-ব্যক্তিস্বার্থে বেড়িবাঁধ নয় কৃষি, জনপদ ও মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় অবৈধ নাইন্টি পাইপ বন্ধ করতে হবে।
  বিষয়:   শ্যামনগর  লবণ পানি  প্রবেশ 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত