ছবি: যাযাদিচুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্তঘেষা কয়েকটি গ্রামে মাদক পাচার ও বেচাকেনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারত সীমান্তের ওপার থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক এনে সীমান্তবর্তী এলাকায় মজুদ করা হচ্ছে। পরে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে এসব মাদক দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। মাদক পরিবহনে উঠতি বয়সী তরুণদেরও ব্যবহার করছে একটি চক্র বলে অভিযোগ রয়েছে।
সীমান্তঘেষা হওয়ায় জীবননগর উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সীমান্তের কাছাকাছি কয়েকটি এলাকায় ছোট ছোট চালানে মাদক আনার পর নির্দিষ্ট স্থানে তা মজুদ করা হয়। সুযোগ বুঝে এসব মাদক বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক পরিবহনের কাজে উঠতি বয়সী তরুণদের ব্যবহার করার কারণে বিষয়টি আরও উদ্বেগের হয়ে উঠেছে। এতে একদিকে মাদক সহজলভ্য হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ মাদক পরিবহনের মতো ঝুকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এদিকে সীমান্ত ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের দিহান নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং সীমান্ত এলাকায় মাদক সরবরাহের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দিহানের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথি ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় ও সচেতন মহলের প্রশ্ন, এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আলোচনায় থাকলে মাদকবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।
সচেতন মহলের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি মাদক সরবরাহের মূল উৎস, পরিবহনকারী এবং স্থানীয় পর্যায়ের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে উঠতি বয়সী তরুণদের মাদক পরিবহনে ব্যবহার বন্ধে পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।