নবগঙ্গা নদীর তীরে শান্ত ও মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে খুলনা বিভাগের প্রথম ‘মডেল মহাশ্মশান’। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ভাবনপাড়া এলাকায় নির্মিত এ মহাশ্মশানটি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রিয়জনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সনাতন ধর্মমতে, জীবনের শেষযাত্রায় প্রিয়জনকে মর্যাদাপূর্ণভাবে বিদায় জানানো গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় ও সামাজিক কর্তব্য। দীর্ঘদিন ধরে উপযুক্ত অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভাবে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো। সেই সংকট দূর করতে সংযোগ সড়কসহ ২৩ দশমিক পাচ শতক জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে এ মহাশ্মশান।
টেকসই ইউনিব্লক, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নান্দনিক নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে পুরো স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে। বিনোদপুর ইউনিয়নের পাশাপাশি মাগুরা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মরদেহও বর্তমানে এখানে সৎকারের জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের দুই মার্চ মহাশ্মশানটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর। পরে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর এটি হস্তান্তর করা হয়। চুয়াডাঙ্গার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাইফুল হাসান জোয়ার্দার দুই কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার ২১৭ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-দুই (জিএসআইডি-দুই)-এর আওতায় মহাশ্মশানটি বাস্তবায়ন করা হয়। মাগুরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আ. ন. ম. ওয়াহিদুজ্জামান এবং তৎকালীন মহম্মদপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসেনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হয়।
বিনোদপুর ভাবনপাড়া মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক নরেশ কুমার সাহা জানান, মহাশ্মশানে রয়েছে দুটি চিতা বেদি, প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার একটি নান্দনিক শিবমন্দির, অফিস ভবন, মরদেহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার (স্নান) কক্ষ, স্টোররুম, দুটি ওয়াশরুম, রন্ধনশালা এবং সেবায়েত ও কেয়ারটেকারের আবাসিক কক্ষ। পুরো এলাকা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা।
তিনি বলেন, স্থাপত্যশৈলী ও মনোরম পরিবেশের কারণে এখন দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ দর্শনার্থী ও ভক্তরাও এটি দেখতে আসেন।
কমিটির সভাপতি হরশিত কুমার সাহা বলেন, পরিপাটি ও আধুনিক এমন একটি মডেল মহাশ্মশান আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল। এটি পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।
মাগুরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আ. ন. ম. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতি বজায় রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। খুলনা বিভাগের প্রথম এই মডেল মহাশ্মশানটি এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’