শ্যামনগরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোেগ, একই পরিবারের দুই ভাই পেলেন লাইসেন্স

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি সার ডিলার নিয়োগের তালিকা ঘিরে অনিয়ম, রাজনৈতিক পক্ষপাত ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে

2026-10-10T13:48:28+06:00
2026-10-10T13:48:28+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
শ্যামনগরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোেগ, একই পরিবারের দুই ভাই পেলেন লাইসেন্স
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ পিএম  
ছবি-যাযাদি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি সার ডিলার নিয়োগের তালিকা ঘিরে অনিয়ম, রাজনৈতিক পক্ষপাত ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত একই পরিবারের দুই ভাইয়ের ডিলারশিপ পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির একাংশ এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় শ্যামনগর পৌরসভা ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের জন্য ১২ জন সার ডিলার মনোনীত হয়েছেন। তালিকাটি প্রকাশের পর থেকেই বাদ পড়া আবেদনকারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্তের পরিবর্তে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং আর্থিক সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগর পৌরসভার জন্য ‘মেসার্স ফাহাদ এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক শামসুদ্দোহা টুটুল এবং তাঁর বড় ভাই আবু এহিয়া মোর্তজার প্রতিষ্ঠান ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ ডিলারশিপ পেয়েছে। শামসুদ্দোহা টুটুল পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব এবং তাঁর ভাই আবু এহিয়া মোর্তজা জামায়াতের রোকন হিসেবে পরিচিত। একই পরিবারের দুজনের ডিলারশিপ পাওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন গ্রহণের বিষয়টিও। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটা। অথচ ওই সময়সীমা পার হওয়ার পরদিন প্রভাব খাটিয়ে শামসুদ্দোহা টুটুলের আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম প্রথম স্থানে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

নকিপুর গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসানের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রেজিস্টারের ছবি তুলে রেখেছিলেন। কিন্তু পরদিন রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে টুটুলের আবেদন গ্রহণ এবং তাঁর পক্ষে সুপারিশের ব্যবস্থা করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। বাদঘাটার বাসিন্দা রানা বলেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেও অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী ডিলারশিপ পাননি। অথচ একই পরিবারের দুই ভাইয়ের নামে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফোন করা হলেও শামসুদ্দোহা টুটুল ও আবু এহিয়া মোর্তজার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের একটি অংশের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের সুপারিশ এবং জেলা কমিটির অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কয়েকজনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত ও নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়া নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও পদধারী ব্যক্তিদেরও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

প্রকাশিত তালিকায় শ্যামনগর পৌরসভায় শামসুদ্দোহা টুটুল, পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব এস এম কামরুজ্জামান, গাবুরায় জেলা কৃষক দলের সভাপতি সালাউদ্দীন লিটন এবং ঈশ্বরীপুরে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের নাম রয়েছে। অন্যদিকে, ভুরুলিয়া ইউনিয়নে মনোনীত হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়সাল হোসেন আলভি। এ ছাড়া কৈখালী ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিন লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগও সামনে এসেছে।

ডিলার নিয়োগের তালিকা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসিফ মাহমুদ রিপন এবং শ্যামনগর উপজেলা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন হোসেন। আসিফ মাহমুদ রিপনের অভিযোগ, একাধিক মামলায় কারাবরণ করার পরও আর্থিক সুবিধা দিতে না পারায় তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে মনিরুল ইসলাম নামের একজনের পক্ষে সুপারিশ করা হয়। অন্যদিকে, আল আমিন হোসেন বলেন, নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করার পরও শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে ফয়সাল হোসেনকে মনোনীত করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিএম লিয়াকত আলীও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, যোগ্যতা ও দলীয় ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন না করে অর্থের বিনিময় এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ডিলার নির্বাচন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুরুলিয়া ইউনিয়নে ১৪ জন আবেদনকারী থাকলেও সুপারিশের তালিকায় একজন বিএনপি নেতাকে প্রথম এবং তাঁর বোনকে তৃতীয় স্থানে রাখা হয়েছিল বলে তিনি জানান।

জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন ইসলামের অভিযোগ, আংশিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক চূড়ান্ত সুপারিশ অনুমোদন করে থাকতে পারেন। তাঁর দাবি, অভিযোগের মুখে থাকা সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন তালিকা তৈরি করতে হবে। অন্যথায় অনিয়মের প্রতিবাদে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তবে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি কিংবা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলায়মান কবির। তিনি বলেন, ডিলারদের তালিকা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করা হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে কাউকে সুপারিশ করার অভিযোগকে তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

সব মিলিয়ে, সরকারি সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আবেদন গ্রহণের সময়সীমা ও যোগ্যতার শর্ত যাচাই এবং চূড়ান্ত তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্র গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা।
  বিষয়:   শ্যামনগর  সার ডিলার  লাইসেন্স 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত