সংগৃহীত ছবি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় পাঁচটি টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিচার বিভাগের মুখপাত্র এমিলি কোভিংটন বলেন, টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহ দলের সদস্যরা হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানগুলোর সংবাদ সংগ্রহ বর্জন করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বাণিজ্যিক প্রতিযোগীদের সম্মিলিত বর্জন শেরম্যান আইন লঙ্ঘন করতে পারে। এ কারণে সংবাদমাধ্যমগুলো আইন ভেঙেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কীভাবে শেরম্যান আইনের লঙ্ঘন হতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট করেনি বিচার বিভাগ। দীর্ঘদিনের এই মার্কিন আইন মূলত একচেটিয়া ব্যবসা ঠেকানো এবং বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা বজায় রাখার জন্য প্রণীত।
নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এ তদন্তের খবর প্রকাশ করে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস এবং এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স ও এনবিসি—এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিবিএস নিউজ।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএসনাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতিপত্র বাতিলের ঘোষণা দেয়। ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো নিয়মিত ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করছে।
হোয়াইট হাউস ওই তিন সংবাদমাধ্যমকে চিঠি দিয়ে জানায়, তাদের প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত শিষ্টাচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে হোয়াইট হাউসে নতুন নাচঘর নির্মাণ, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং রিপাবলিকান দলের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্মেলনসংক্রান্ত খবরও ছিল।
হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ দলের অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি টেলিভিশন সংবাদমাধ্যম যৌথভাবে সংবাদ সংগ্রহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটে, যখন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটনে ছিলেন।
যৌথ বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সরকার সম্পর্কে নির্ভুল ও স্বাধীন তথ্য পাওয়া জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না হলেই কোনো প্রশাসনের উচিত নয় তাকে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা।
হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহ দল পালাক্রমে প্রেসিডেন্টের সফর ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ করে। পরে সেই ভিডিও অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়।
অনুমতিপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিএনএন, এমএসনাও ও পলিটিকো আদালতে মামলা করে। পরে মার্কিন জেলা বিচারক টিমোথি কেলি ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এর ফলে তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতিপত্র পুনর্বহাল করা হয়।
অনুমতিপত্র ফিরে পেলেও সিএনএন ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের ওভাল অফিসে প্রবেশ কিংবা প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সুযোগ এখনো দিচ্ছে না হোয়াইট হাউস।