ধ্রুব রাঠিভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার গনেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আগেই আটক হয়েছিলেন জার্মানিতে বসবাসরত জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। ১৮ ঘণ্টা পর শনিবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৩টার দিকে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার আবাসিক এলাকা থেকে ধ্রুব রাঠিকে আটক করা হয়। পরে তাকে গুরুগ্রামের অপরাধ শাখার একটি কার্যালয়ে রাখা হয়।
গুরুগ্রাম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ধ্রুব রাঠির পরিবারের সদস্যরা অপরাধ শাখার কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর তাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দিল্লি পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেই তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, রাজধানীতে তখন নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন কোনো দল বা জনতার সঙ্গে তিনি যুক্ত হবেন না, তা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ধ্রুব রাঠি জন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আবার আটক করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আরও আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
বিক্ষোভকারীদের জন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের অভিযানে প্রায় সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, আইনজীবী ও রাজনীতিকদের পাশাপাশি চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টির নেতারাও আটক হন।
গত তিন মাস আগে শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগে ভূমিকা রাখা ককরোচ জনতা পার্টি এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল। নিরাপত্তাকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের জন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে বাধা দিলেও দিনভর দিল্লির বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদ চলে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিল্লি বিমানবন্দরে। সেখানে অবতরণ করা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীরা ককরোচ জনতা পার্টির তিন সদস্য অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করেন। বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।
বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি রোববারও (১১ অক্টোবর) টানা দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। একই দিন বিতর্কিত এই অভিযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদন শুনতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ বসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে নতুন করে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস