যশাই ইউনিয়নে চাদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা । ছবি: যাযাদিরাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নে চাদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে ইউনিয়ন বিএনপি। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর পুকুরে বিষ প্রয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাদের চাদাবাজ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যায় যশাই ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল ওহাব প্রামাণিক।
আব্দুল ওহাব প্রামাণিক বলেন, সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদের নির্দেশনা এবং পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. চাদ আলী খানের নেতৃত্বে যশাই ইউনিয়ন বিএনপি সুসংগঠিত হয়েছে। তার দাবি, ইউনিয়নে কোনো চাদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে পুকুরে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে এবং এর দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক কালাম মণ্ডল চাদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে প্রকৃত মালিকেরা আমিন দিয়ে জমি মেপে খুটি স্থাপন করেন। এরপর বিরোধের জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে পুকুরে বিষ প্রয়োগের ঘটনা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকানা নিয়েও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কথা তুলে ধরেন বিএনপি নেতারা। আব্দুল ওহাব প্রামাণিকের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পরিবারটি জাল দলিলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন জমি ভোগদখল করে আসছে। তার দাবি, জমির বিরোধকে কেন্দ্র করেই বিএনপিকে চাদাবাজ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যশাই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হক বকুল মিয়া বলেন, ইউনিয়নে চাদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে হেয় করতে দলটির বিরুদ্ধে চাদাবাজির অভিযোগ তুলেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বকুল মিয়া আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি একাধিকবার সালিসের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। তার দাবি, সালিসে আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জমির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি মাপার পর খুটি স্থাপন করা হয়। এর পরপরই পুকুরে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপিকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে যশাই ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।