প্রকাশ: রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গুমানতলী ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার শিক্ষক নূর আলমের বিরুদ্ধে। শিশুটির পরিবারের দাবি, প্রায় সাত মাস আগে প্রাইভেট পড়ানোর সময় জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়। বর্তমানে শিশুটি প্রায় ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় আরও দুই কিশোরের বিরুদ্ধে ভিডিও ধারণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর এক টার দিকে শিশুটির স্বজনেরা তাকে সঙ্গে নিয়ে শ্যামনগর থানায় যান এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তারা হাসপাতাল থেকে ফিরলে অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত নূর আলম (৩৫) শ্যামনগর উপজেলার গুমানতলী গ্রামের সামছুর সরদারের ছেলে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া গ্রামে। পড়াশোনার জন্য সে শ্যামনগরের গুমানতলী গ্রামে তার নানা জিয়াদ আলী গাজীর বাড়িতে থাকত। এ সময় সে নূর আলমের কাছে প্রাইভেট পড়ত।
পরিবারের অভিযোগ, প্রাইভেট পড়ার সময় শিশুটিকে জুস পান করতে দেওয়া হয়। এরপর সে অচেতন হয়ে পড়লে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর শিশুটিকে ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও দাবি করেছেন স্বজনেরা।
তাদের ভাষ্য, ভিডিও দেখিয়ে শিশুটিকে ব্ল্যাকমেইল করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় শিশুটি তিনজনের নাম উল্লেখ করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক নূর আলম এবং গুমানতলী মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী আবু হাসান (১৪) ও হযরত (১৭)। আবু হাসান শাজাহান সরদারের ছেলে এবং হযরত হানিফ সরদারের ছেলে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শিক্ষক নূর আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী ফোনটি ধরেন। তিনি এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারবেন না বলে জানান।
শিশুটির গর্ভাবস্থা ও অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসাগত প্রতিবেদন এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।