মিঠুন মন্ডল খুলনায় ভারতীয় ভিসা অফিস ও ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের (আইভিএসি) পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা এবং ভিসা করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই প্রতারক মিঠুন মণ্ডল ও অপু নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে প্রতারণা করে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রথমে ভারতীয় ভিসার আবেদন করে দেওয়ার কথা বলে ফরম পূরণ বাবদ এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়।
পরে আবেদনকারীদের ফরমে দেওয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে ফোন করা হয়। ফোনে নিজেদের ভারতীয় হাইকমিশন বা ভিসা অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে বলা হয়, তাঁদের ভিসার আবেদন জমা দিতে হবে। কাগজপত্রে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে জানিয়ে প্রতি পাসপোর্টের বিপরীতে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়।
এভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন রত্না মল্লিক, বাসন্তী পাঁশারী, নমিতা হালদারসহ একাধিক ব্যক্তি। তাঁদের দাবি, ভিসা পাওয়ার আশায় তাঁরা টাকা দিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয় ও কার্যক্রম নিয়ে তাঁদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে খুলনার ভারতীয় ভিসা অফিসের এক কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, দালাল বা প্রতারকদের টাকা দিয়ে ভিসা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভিসা অফিসের সামনে একটি চক্র মানুষকে প্রতারণা করছে বলে তাঁরা শুনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অপু নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি নিজেকে ঢাকার ভারতীয় ভিসা ইমিগ্রেশন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, খুলনার বয়রা-সোনাডাঙ্গা এলাকায় ভারতীয় ভিসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দেওয়ার বিজ্ঞাপনসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে মিঠুন মণ্ডলের বিরুদ্ধে। এসব ব্যানারে মেডিকেল, ট্যুরিস্ট, এন্ট্রি, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন, নতুন পাসপোর্ট তৈরি ও নবায়ন, বিমান ও ভারতীয় ট্রেনের টিকিট এবং চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের মতো সেবার কথা উল্লেখ রয়েছে।
সাংবাদিকেরা সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে মিঠুন মণ্ডল স্থানীয় কিছু লোকের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এই চক্রটির নামে ৷
ভুক্তভোগীদের দাবি, খুলনা জেলার কয়রা এলাকার বাসিন্দা মিঠুন মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে ভিসা অফিসের সামনে অবস্থান করে বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ভিসা করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা নেন। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ প্রতারণার অঙ্ক কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলেও দাবি করেছেন।
বয়রা এলাকার বাসিন্দা আবু বকর বলেন, “মিঠুন ও অপু দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে বলে আমরা জানি। বিষয়টি তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের পরিচয় যাচাই, আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধান এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে ভিসার আবেদন করতে আসা সাধারণ মানুষকে দালালচক্রের খপ্পর থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা ৷