প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৩ পিএম
সংগৃহীত ছবিশিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার চেষ্টায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে করা মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে রিমান্ড শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
এ দিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের আটক রাখার পক্ষে শুনানি করেন।
তিনি আদালতে বলেন, ‘আয়াস রবীন্দ্রনাথ ছাড়া কারো মুখে কালি দেয়নি। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালি দিয়ে মূলত হিন্দু সম্প্রদায়কে উসকে দিয়েছে, কারণ সামনে দুর্গাপূজা। সেফুদার থেকে এরা গালি শিখছে।
সব সময় গালাগাল করে এরা। গালাগালি করলে মনে করে ভাইরাল হতে পারবে। ভালো কথা বলে ভাইরাল হওয়ার সুযোগ আছে।’
আজ আয়াসকে তিন দিন এবং রিমিকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল।
এর আগে গত রবিবার এ মামলার অন্য দুই আসামিসহ আরো দুজনকে রিমান্ডে পাঠানো হয়। তারা হলেন সাকিবুল হাসান ও সুজন শেখ। এর মধ্যে সাকিবকে তিন দিন এবং সুজনকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। গতকাল মঙ্গলবার এ দুজনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
এরপর ফুটপাতের দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি আঁকা হয়।
শুক্রবার ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি ফেইসবুক পেজ থেকে এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের ছবি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সত্যজিৎ রায় কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ‘পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিকৃতি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। শনিবার ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর আয়াসের নেতৃত্বে সেসব গ্রাফিতি মুছতে যায় একদল লোক।