চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল, ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নেত্রকোণা প্রতিনিধি

সারাদেশ

নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পরিষদের সচিব মো. মজিবুর

2026-10-14T17:53:35+06:00
2026-10-14T17:53:35+06:00
বুধবার ● ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল, ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম  
ছবি-যাযাদি
নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পরিষদের সচিব মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। 

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে ছয়টি চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন এবং বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া।

এ ঘটনায় কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চেয়ারম্যান। অভিযোগ পাওয়ার পর সচিবকে তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগপত্রটি নেত্রকোনার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

চেয়ারম্যানের অভিযোগ অনুযায়ী, উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ভ্যাট ও আয়কর বাবদ ৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, সাধারণ তহবিল থেকে স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলন করা ৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন খাত থেকে গত দুই মাসে আদায় করা প্রায় ৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রায় ২০ দিন আগে সোনালী ব্যাংকের কলমাকান্দা শাখা থেকে পরিষদের ব্যাংক হিসাবের বিবরণী (স্টেটমেন্ট) হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। ব্যাংক হিসাবের বিবরণী না নিলে এত টাকা উত্তোলনের বিষয়টি জানতে পারতেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

চেয়ারম্যানের ভাষ্য, তাঁর স্বাক্ষর জাল করে কয়েক দফায় ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন সচিব। এ ছাড়া বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা গত দুই মাসের প্রায় ৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা পরিষদের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সচিব যে জমার স্লিপ দেখিয়েছেন, সেগুলোতেও ব্যাংক কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় অনেক সময় সচিবের ওপর আস্থা রাখতে হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সচিব টাকা উত্তোলন ও ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানানোর পর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের বিষয়ে চেয়ারম্যানের লিখিত আবেদন পাওয়ার পর সচিব মজিবুর রহমানকে তলব করা হয়। সচিব প্রাথমিকভাবে কিছু টাকা তাঁর কাছে রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। ইতিমধ্যে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগপত্রটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি সচিব মো. মজিবুর রহমানের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, সোনালী ব্যাংকের কলমাকান্দা শাখার ব্যবস্থাপক মো. মতিউর রহমান বলেন, “ব্যাংকে সংরক্ষিত নমুনা স্বাক্ষরের সঙ্গে চেকের স্বাক্ষর প্রায় ১০০ শতাংশ মিলে যাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।”

অভিযুক্ত সচিব মো. মজিবুর রহমানের বাড়ি পাশের দুর্গাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফান্দা গ্রামে।
সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত