সাবেক উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই মারা গেছেন

যাযাদি অনলাইন

জাতীয়

মুন্সীগঞ্জের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক উপমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের সাবেক প্যানেল স্পিকার ও বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হাই (৭৭) মারা

2026-10-15T10:34:03+06:00
2026-10-15T13:31:55+06:00
বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
জাতীয়
সাবেক উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই মারা গেছেন
যাযাদি অনলাইন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম  আপডেট: ১৫.১০.২০২৬ ১:৩১ পিএম 
সাবেক উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই
মুন্সীগঞ্জের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক উপমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের সাবেক প্যানেল স্পিকার ও বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হাই (৭৭) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য, উপমন্ত্রী ও প্যানেল স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। অটল নীতি, ব্যক্তিগত নৈতিকতা, সাদামাটা জীবনযাপন ও সহজ বাচনভঙ্গির কারণে দলমত-নির্বিশেষে এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা ছিল।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আবদুল হাইয়ের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে মুন্সীগঞ্জে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল হাই। তার বাবা মনির উদ্দিন ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তার স্ত্রী জামিলা খাতুন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। তার বড় ভাই মহিউদ্দিন আহমেদ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আব্দুল হাই মুন্সীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহী ছিলেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রাখেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন আবদুল হাই। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়েও কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় পর্যায়ে তার দীর্ঘ পথচলা তাকে মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মরহুম আব্দুল হাই ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থাশীল ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং জনগণের সঙ্গে দলের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে মরহুম আব্দুল হাইয়ের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

বিএনপির রাজনীতিতে আব্দুল হাইয়ের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, 'বিভিন্ন সময়ে দেশে স্বৈরাচার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন রাজপথের অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক।'

তিনি বলেন, 'গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ও রাজনৈতিক অবদান বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। '

তারেক রহমান বলেন, ‘আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে বিএনপি একজন অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও আদর্শনিষ্ঠ নেতাকে হারাল। তাঁর মৃত্যু দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।'

আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

এক শোকবার্তায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, আব্দুল হাই ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শে গভীরভাবে আস্থাশীল এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী আব্দুল হাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

তিনি বলেন, জনসেবার মহান লক্ষ্য সামনে রেখে রাজনীতি করতেন বলেই সংসদ সদস্য ও সরকারের মন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজ এলাকাসহ সারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। তিনি ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ ও জনঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ হিসেবেও সর্বমহলে তার অকৃত্রিম গ্রহণযোগ্যতা ছিল।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতান্ত্রিক চেতনাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে মানুষের বাক-স্বাধীনতা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের পক্ষে তার সংগ্রাম ছিল অবিস্মরণীয়। তার মতো আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছেন।

শোক বার্তায় রিজভী মরহুম আব্দুল হাইয়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একইসাথে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ফেসবুক পোস্টে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এমপি কামরুজ্জামান রতন লিখেছেন, মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. আব্দুল হাইয়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত।

তিনি আরও লেখেন, ঢাকা-৮ ও মুন্সীগঞ্জ-৪ আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত এই সফল সংসদ সদস্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পিকার হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এমপি কামরুজ্জামান রতন লিখেছেন, দীর্ঘকাল মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে অঞ্চলের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তিনি যে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত এই গণমানুষের নেতার প্রয়াণে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হবার নয়। আল্লাহ তাআলা উনার সমস্ত নেক আমল কবুল করে এবং জীবনের ভুলত্রুটি মার্জনা করে উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করুন। উনার শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি রইল গভীর সমবেদনা।

প্রসঙ্গত, আব্দুল হাই ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার সংসদীয় রাজনীতির সূচনা হয়। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, একই বছরের ১২ জুন এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হন তিনি। সব মিলিয়ে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আব্দুল হাই। তিনি তৎকালীন মুন্সীগঞ্জ-৪ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিভিন্ন সময়ে ঢাকা-৮ ও মুন্সীগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার তথ্যও তার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

জাতীয় রাজনীতিতে তার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী নিযুক্ত হন। পরে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে প্যানেল স্পিকার নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য ও উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।

আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শোক প্রকাশ করছেন।



  বিষয়:   আব্দুল হাই  বিএনপি  উপমন্ত্রী 


জাতীয়- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত