প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৩ পিএম
সংগৃহীত ছবিবেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন'-এর রূপসা শাখার এক মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে ৪০ জন গ্রাহকদের প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সঞ্চয় ও ঋণের লভ্যাংশের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত এ অর্থ নিয়ে ওই কর্মী হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন-এর মাঠকর্মী অভিযুক্ত ইতু বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গৃহিণী ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক সঞ্চয়ের টাকা সংগ্রহ করে আসছিলেন। পাশাপাশি সংগৃহীত টাকার বিপরীতে ভালো মুনাফা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কয়েক বছর আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন-এর মাঠপর্যায়ে কাজ করে সম্পর্ক করে তোলেন গ্রাহকদের সাথে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি ঋণের সুবিধা দেখিয়ে নতুন ঋণের জামানতের টাকা, পূর্বের ঋণের এককালীন পরিশোধের টাকা, ব্যাংক চেকসহ পালিয়ে যান ইতু বিশ্বাস।
খবর জানতে পেরে গ্রাহকরা রূপসা শাখার অফিসে দারস্ত হলে অফিস কর্মকর্তারা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চায়। তারা বলেন ইতু বিশ্বাসকে তারা নজরদারিতে রেখেছে। পরবর্তীতে গ্রাহকরা থানায় অভিযোগ করার কথা বললে, এরিয়া ম্যানেজার এবং শাখা ম্যানেজার বিষয়টি সমাধান করার কথা বলেন। এবং গ্রাহকদের ব্যাংক চেকের পাতাসহ পাশ বই ফেরত চাইলে তারা জানান ইতু বিশ্বাসকে খুঁজে পেলে সবকিছু ফেরত দেওয়া হবে। এমন অবস্থায় গ্রাহকদের কিস্তি দিতে কোন প্রকার বাড়তি চাপ দেওয়া হয় না বলে জানান ভুক্তভোগীরা। দেড় বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ০৬/০৮/২০২৬ তারিখে আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে লিগাল নোটিশ পাঠিয়ে দেয় ভুক্তভোগীদের নিকট ঋণের অর্থ জমা দেওয়ার জন্য। ভুক্তভোগীরা কোন উপায় না পেয়ে রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
আরো খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইতু বিশ্বাসের পূর্বেও পুরুষ কেলেঙ্কারি রয়েছে বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ রূপসা থানাতে বসে দফারফা করেন। তারপরেও ইতু বিশ্বাসকে কর্তৃপক্ষ চাকরিতে বহাল রাখে। আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের এরিয়া ম্যানেজার শেখ সোহেল রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বলেন ইতু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছেন এর থেকে বেশি কিছু জানিনা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেক কষ্টে অর্জিত জমানো সম্বল হারিয়ে এখন তারা দিশেহারা। অবিলম্বে আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার এবং অভিযুক্ত কর্মীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।