ছবি-যাযাদি নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ২৫ হাজার ঘনফুট পাথর, পাথর ভাঙার পাঁচটি ক্রাশার মেশিন এবং প্রায় ৪০০ ঘনফুট পাথরবোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বাধীন যৌথ টাস্কফোর্স।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযানে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা অংশ নেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় মজুদ করা হচ্ছিল। পরে এসব পাথর ক্রাশার মেশিনে ভেঙে প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ও বাজারজাত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের সাতটি পাথর মজুদের স্থানে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ২৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে পাথর ভাঙার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি ক্রাশার মেশিন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া প্রায় ৪০০ ঘনফুট পাথরবোঝাই একটি ট্রাক আটক করা হয়। আটক ট্রাকটি বর্তমানে ডিমলা থানা-পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে পাথর উত্তোলন করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় মজুদ ও প্রক্রিয়াজাত করার কার্যক্রম চলে আসছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন, নদীর প্রবাহ এবং তীরবর্তী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযানে টেপাখড়িবাড়ী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অভিযানের নিরাপত্তায় বিজিবির ২২ সদস্য এবং পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
অভিযান শেষে ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থান রয়েছে। নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো ব্যক্তি বা চক্র অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে জব্দ করা পাথরের পরিমাণ প্রাথমিকভাবে আনুমানিক হিসাবের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত করতে পাথরগুলো পরিমাপের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা পাথর নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, অভিযানে আটক পাথরবোঝাই ট্রাকটি থানা-পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এক দিনের অভিযান যথেষ্ট নয়; তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ পাথর উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহন বন্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন। তাঁদের মতে, কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে নদীর প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।