প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৫ পিএম
ছবি-যাযাদি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাঅষ্টমীতে কুমারী পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে শহরের কালাইশ্রীপাড়া গুরুচরণ রায়ের আখড়ায় টাউন সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির আয়োজনে এই কুমারী পুজা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার দুপুরে শাস্ত্রীয় নানা আচার অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দূর্গা দেবীকে কুমারী রূপে স্মরণ করা হয়।
কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকেই পূজা মন্ডপে ভক্তদের ঢল নামে। এবার ১০ বছরের কুমারী কন্যা ঈশিতা চক্রবর্তীকে কুমারী রূপে পুজা করা হয়।
পুজা মন্ডপে উপস্থিত গায়ত্রি সাহা, রাকেশ রায় ও সঞ্জয় সাহা জানান, দেবী দুর্গার একরূপ হচ্ছে কুমারী। স্বামী বিবেকানন্দ প্রথম বেলুড়মঠে ১৯০১ সালে কুমারী কন্যাকে দেবী রূপে পূজা করে ছিলেন। এর পর থেকে ভক্তকূলে কুমারী পুজার প্রচলন হয়ে আসছে। আমরা দেবীরূপী কুমারী মায়ের কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের পরিবারের পাশাপাশি সকলকে ভালো রাখেন। এছাড়া মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি, মা যেন সকল অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন এমনটাই প্রার্থনা করছি।
টাউন সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্ডপের পুরোহিত প্রসেঞ্জিৎ চক্রবর্তী জানান, শাস্ত্রমতে কুমারী পুজার উদ্ভব হয় বানাসুর বা কোলাসুরকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে। কোলাসুর নামক অসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করে নেয়। কোলাসুর স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হন। সে সকল দেবগণের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী মানবকন্যা রূপে জন্মগ্রহণ করেন ও কুমারী অবস্থায় কোলাসুরকে হত্যা করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে (পৃথীবিতে) কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।
এর আগে সকালে সন্ধি পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধি পূজায় ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্জলন করার মধ্য দিয়ে শেষ হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা।