ছবি-যাযাদি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে নারায়ণগঞ্জের ৫ নম্বর ঘাট বিসর্জনস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক, সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নেতৃবৃন্দরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান সহ প্রশাসনের নেতৃবৃন্দরা পরিদর্শন করেন। এছাড়াও জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ৫ নম্বর ঘাট বিসর্জনস্থল পরিদর্শনে ছিলেন ।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জেটি, বিদ্যুৎ, আলোকসজ্জা ও যাতায়াত ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন এই উৎসবের একটি ভাবগম্ভীর পর্ব। এই পর্বটি যাতে সবাই নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণভাবে, শৃঙ্খলার সঙ্গে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারে সেজন্য সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা ও বিসর্জন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়াও পূজায় কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর জোর তাগিদ দেন।
এসময় পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ৫ নম্বর ঘাটসহ জেলার সকল বিসর্জন ঘাট ও পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিসর্জন ঘাট ও আশপাশের এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও বাড়তি ফোর্স মোতায়েন থাকবে। পুলিশ, আনসার ও বিজিবির পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জে ২৪০টি পূজামণ্ডপসহ বিসর্জন ঘাটগুলোর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার করা হয়েছে। বিসর্জন ঘাট ও মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলার সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, সার্বক্ষণিক জেনারেটর ব্যাকআপ এবং বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর টিমও কাজ করছে।
এছাড়াও বিসর্জন ঘাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি, এসআরবি, পুলিশ, ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বিসর্জন প্রক্রিয়া সহজ করতে ঘাটে বিশেষ জেটি তৈরি করা হয়েছে। বিসর্জনের সময় নদীতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি বা দুর্ঘটনা মোকাবেলায় ঘাটে সার্বক্ষণিক ডুবুরি দল (ফায়ার সার্ভিস) মোতায়েন রাখা হবে।