ছবি-যাযাদি রাজশাহীর বাঘায় আনসার ও ভিডিপি, পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয় বাঘা উপজেলার ৪৭টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দিন-রাত নিরলস দায়িত্ব পালন করছেন আনসার ভিডিপি ও পুলিশের সদস্যরা। প্রতিটি মণ্ডপে সতর্ক পাহারা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের আন্তরিকতা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সত্যজিৎ কুমার সরকারের দক্ষ নেতৃত্ব ও সার্বক্ষণিক তদারকিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদ ও স্থানীয়রা আনসার-ভিডিপির এই মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পারিবারিক বন্ধন ও তারুণ্যের উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণের পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে ছবি তোলা,বন্ধুদের আড্ডা ও নানা আয়োজন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর, ২০২৬) উপজেলার নারায়ণপুর, বলিহার, পাকুড়িয়া, বাউসা ও আড়ানীসহ বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও পূজামণ্ডপ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতি, আলোকসজ্জা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
এদিন বলিহার উত্তরপাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির, বলিহার মধ্যপাড়া কালীমাতার মন্দির, বলিহার সার্বজনীন শিবমন্দির ও বিনোদপুর সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার তিনি মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং পূজার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,"দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।"
পরিদর্শনকালে উপস্থিত " উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সত্যজিৎ কুমার সরকার" বলেন, "শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পূজা মণ্ডপে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় পূজার দিনগুলি ভালোভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।"
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক সোহেল রানা এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা মনসুর আলী।
পূজামণ্ডপ ঘিরে বসেছে নানা ধরনের দোকান। আলোকসজ্জায় সজ্জিত মণ্ডপগুলোতে তরুণদের আড্ডা, চা পান ও ছবি তোলার ব্যস্ততা চোখে পড়ছে।
উপজেলায় এবার ৪৭টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চালের পাশাপাশি পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, সংসদ সদস্য এবং বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বাঘা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কুমার বাকু পান্ডে বলেন, "সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে মিলেমিশে শান্তি-শৃঙ্খলার সঙ্গে বসবাস করতে হবে। দুর্গাপূজা সত্য প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা দেয়।"