প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৪ পিএম
ছবি: যাযাদিমো. নুরুল ইসলাম, উজিরপুর প্রতিনিধি (প্রজন্ম কথা): বরিশালের উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে কাওসার হাওলাদার (৩২) নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলায় শাহ আলমের চায়ের দোকানের উত্তর পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত কাওসার হাওলাদার উপজেলার আলমদী গ্রামের মোনাফসের হাওলাদারের ছেলে। স্থানীয় লোকজন তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলমদী এলাকার আশিকুল হাওলাদার, কাওসার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে সজল মোল্লাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার জেরে সজলের ভাই ইকবাল হোসেন নান্না ফেসবুকে প্রতিশোধের ইঙ্গিত দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২১ অক্টোবর তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সাতলার একতা বাজার এলাকায় আগের বিরোধের জেরে ইকবাল হোসেন নান্না ও তার ছেলে সাজিদ মোল্লাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে আশিকুল, কাওসার ও রাশেদ আমিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে মারামারির খবর পেয়ে ঢাকায় অবস্থানরত সজল হাওলাদার ও শামীম হাওলাদার একটি হাইয়েস গাড়িতে করে উজিরপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পরে পশ্চিম সাতলায় শাহ আলমের চায়ের দোকানের উত্তর পাশে কাওসারকে পেয়ে সজল ও শামীমসহ তাদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
গুরুতর আহত কাওসারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একটি হাইয়েস গাড়ি থেকে নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ঘটনার কারণ ও পুরো পরিস্থিতি তদন্ত করছে পুলিশ।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।