প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৭ পিএম
ছবি-যাযাদি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নৈশ টহলকালে থামার সংকেত অমান্য করে এক পুলিশ সদস্যকে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. মারুফ হোসেন (২৬) নামে এজাহারনামীয় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ। এর আগে ভোরের দিকে দর্শনা থানার উজলপুর গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মারুফ হোসেন দর্শনা থানার জয়নগর (কাস্টমপাড়া) গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ২২ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে দামুড়হুদা থানার এসআই মো. শামসুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দামুড়হুদা-দর্শনা মহাসড়কের লোকনাথপুর ছোট পোল এলাকায় নৈশ টহল দিচ্ছিল। এ সময় একটি বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা।
কিন্তু মোটরসাইকেল আরোহী সংকেত অমান্য করে পালানোর উদ্দেশ্যে কর্তব্যরত কনস্টেবল মো. আলমগীর হোসেনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আলমগীর হোসেনের মাথা, চোখ, পিঠ ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। ঘটনার পরপরই মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান চালক।
পরে আহত পুলিশ সদস্যকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাল-কালো রঙের একটি হিরো গ্ল্যামার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: চুয়াডাঙ্গা-হ-১৪-৯৭০৫) জব্দ করে। এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর দামুড়হুদা মডেল থানায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩ ও ৩০৭ ধারায় মামলা (মামলা নং-১৪) করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের নির্দেশনায় ও দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরুল্লাহর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মাহাবুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি অভিযান দল মারুফকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ আরো জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে দর্শনা ও ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মোট ৯টি মামলা রয়েছে। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।