প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
ছবি-যাযাদিযশোরের শার্শায় স্ত্রীর পরকীয়ার সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি। স্ত্রী কৌশলে সম্পত্তি লিখে নেওয়া, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়া এবং পরে অন্য একজনকে বিয়ে করার অভিযোগে তিনি আদালতে মামলা করেছেন। তবে মামলার তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী।
নুরুজ্জামানের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, সরলতার সুযোগ নিয়ে তার স্ত্রী ফারহানা পারভিন দুলালী বিভিন্ন কৌশলে তার কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নেন। পরবর্তীতে শার্শা রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের সূত্রে শার্শা জমি লেখন সমিতির সেক্রেটারি বুলবুল হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে স্ত্রী তাকে ছেড়ে বুলবুল হোসেনকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ৯ জুলাই যশোর আদালতে মামলা দায়ের করেন নুরুজ্জামান। তার অভিযোগ, স্ত্রী বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার সময় প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ আড়াই লাখ টাকা এবং সমিতি থেকে তোলা আরও দেড় লাখ টাকা নিয়ে যান। এছাড়া স্ত্রীকে বিশ্বাস করে খুলনার শিরোমণিতে চার শতক জমির ওপর নির্মিত একটি তলা বাড়িও তার নামে লিখে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন নুরুজ্জামান। তার ভাষ্য, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর তিনি আর্থিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন।
নুরুজ্জামানের অভিযোগ পত্রে আরো বলেন, মামলা দায়েরের পর তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং জীবননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে গত ০৫ সেপ্টম্বর তিনি শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, নুরুজ্জামানকে চাপে রাখতে তার সাবেক স্ত্রী গত ৪ আগস্ট যশোর আদালতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, তাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই ওই মামলা করা হয়েছে।
নুরুজ্জামান বলেন, “আমি সরলভাবে স্ত্রীকে বিশ্বাস করেছিলাম। সেই সুযোগে আমার কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নেওয়া হয়েছে। এখন আমি নিঃস্ব। মামলা করার পরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও ন্যায়বিচার চাই।
তবে অভিযুক্ত ফারহানা পারভিন দুলালী ও বুলবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।