সংগৃহীত ছবিইরিত্রিয়ার ওপর আরোপিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরিত্রিয়ার ক্ষমতাসীন দল পিপলস ফ্রন্ট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড জাস্টিস (পিএফডিজে), দেশটির সামরিক বাহিনী এবং রেড সি ট্রেডিং করপোরেশনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। রেড সি ট্রেডিং করপোরেশন ইরিত্রিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকির ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হাগোস গেব্রেহিওয়েতের ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
২০২১ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলের সংঘাতে ইরিত্রিয়ার ভূমিকার কারণে এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ওই যুদ্ধে ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে লড়াইয়ে অংশ নেয়।
আফ্রিকান ইউনিয়নের হিসাব অনুযায়ী, টাইগ্রে সংঘাতে প্রায় ৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও ওঠে।
১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই ইরিত্রিয়া শাসন করছেন প্রেসিডেন্ট আফওয়ারকি। ২০২০-২০২২ সালের ইথিওপিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় দুই দেশ সাময়িকভাবে মিত্র হলেও পরবর্তীতে তাদের সম্পর্ক আবারও অবনতি ঘটে। বর্তমানে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আদ্দিস আবাবা ও আসমারার মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইথিওপিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদানের গৃহযুদ্ধে ইউএই-সমর্থিত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সহায়তা দিতে ইথিওপিয়া ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে দেশটি আমিরাতের সরবরাহ করা ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্রব্যবস্থাও ব্যবহার করছে।
ইরিত্রিয়া সুদানের সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে। এ বিষয়ে মিসর, তুরস্ক ও সৌদি আরবও একই অবস্থানে রয়েছে।
একসময় ইউএইর ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল ইরিত্রিয়া। লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর আসাবে আমিরাতের একটি সামরিক ঘাঁটিও ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
ইরিত্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমান সালেহ অভিযোগ করেন, ইউএই আফ্রিকাজুড়ে ‘বন্দর সাম্রাজ্যবাদ’ অনুসরণ করছে এবং ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে লোহিত সাগরে একটি নৌঘাঁটি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা ইরিত্রিয়ার লোহিত সাগর উপকূলের দৈর্ঘ্য এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। জিবুতি, ইরিত্রিয়া ও ইয়েমেনের জলসীমা মিলেই গঠিত হয়েছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
ইয়েমেনের হুথি বাহিনী দেশটির পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। বর্তমানে তারা তাইজ ও মারিব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও লড়াই করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমান সালেহ বলেন, ইয়েমেন সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তার মতে, দেশটিকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে উপকূলীয় দেশগুলোরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে ইয়েমেনে ঐক্যবদ্ধ সরকার না থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সূত্র: খবর দ্যা মিডল ইস্ট আই-এর