পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের নিয়োগে দূর্নীতি পেল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

যাযাদি রিপোর্ট

অর্থনীতি

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ৪৯২ জন অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও কর্মকর্তা স্থানান্তরে ব্যাপক দুর্নীতি, খাতা জালিয়াতি এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের

2026-09-21T18:45:38+06:00
2026-09-21T18:45:38+06:00
সোমবার ● ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
অর্থনীতি
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের নিয়োগে দূর্নীতি পেল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
যাযাদি রিপোর্ট
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ পিএম  
ছবি-যাযাদি
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ৪৯২ জন অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও কর্মকর্তা স্থানান্তরে ব্যাপক দুর্নীতি, খাতা জালিয়াতি এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কঠোর চিঠি জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টিগৃটি এন্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট (এফআইসিএসডি) থেকে প্রকাশিত এই বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক স্মারক নং-পসব্য/প্রকা/প্রশা-১(১৫)/২০২২-২৩/১৪৮৬ তারিখ: ১২.০৬.২০২৩ মূলে ৪৯২ জন ‘অফিস সহায়ক’ এবং ৭২ জন ‘নিরাপত্তা প্রহরী’ নিয়োগের লক্ষে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। উক্ত বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ২০২৪ সালে ৩৭২ জন অফিস সহায়ক ও ৬৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ প্রদান করা হয়।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের স্মারক নং-পসব্য/প্রকা/প্রশা-১(১৫)/২০২২-২৩/৭২৫, তারিখ: ১১.০৫.২০২৩ মূলে নিয়োগ র্কাযক্রম পরিচালনার জন্য ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য ও নথি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, সংশ্লিষ্ট সময়ে ব্যাংকে দুই জন সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক কর্মরত থাকাবস্থায় সত্ত্বেও মো: আলাউদ্দীনকে পুরো নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার সবচেয়ে মুল গুরুত্বপূর্ন পদে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। উক্ত নিয়োগ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আনুমানিক ২৫-৩০ কোটি টাকার আর্থিক অনয়িম বা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগে মো: আলাউদ্দীনকে এ র্কাযক্রমের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
 
ওই নিয়োগ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পরিদর্শন তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছে। প্রাপ্ত স্মারক নং-এফআইসিএসডি/২০২১/২০২৫-১৯৬৭, তারিখ: ২৯.১০.২০২৫ মূলে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পরিদর্শন প্রতিবেদনটি প্রেরণ করে। উক্ত পরিদর্শন প্রতিবেদনে নিয়োগ কার্যক্রমে নিম্নলিখিত অনিয়মসমূহের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে যার সারসংক্ষপে নিম্নরূপ:

১. লিখিত পরীক্ষার উত্তর পত্রে জালিয়াতি, যেমন: ২৩০ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষার উত্তর পত্রে সকল প্রশ্নের হুবহু একই উত্তর। ২. কতিপয় পরীক্ষার্থীর উত্তর পত্রে একই ব্যক্তির হাতের লেখা। ৩. তদন্তে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের কয়েক জনকে উপস্থিত করানো হলে উত্তর পত্রের লেখা পরীক্ষার্থীদের নিজের নয় মর্মে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি। ৪. উক্ত ২৩০টি উত্তর পত্রের সকল প্রশ্নের উত্তরের সাথে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের পরবর্তী মাসে প্রকাশিত অগ্রদূত প্রকাশনার ‘জব সল্যুশন’ গাইড বইয়ের উত্তরের হুবহু মিল পাওয়া যায়। ৫. ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য মোতাবেক পরীক্ষার উত্তর পত্র সমূহ সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধায়নের জন্য ট্রাঙ্কের চাবি জিএম মো: আলাউদ্দীন-এর নিকট সংরক্ষিত ছিল। ৬. চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৪৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বর্ণিত ২৩০ জন পরীক্ষার্থীকে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়েছে মর্মে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের দূর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের মুল হোতা সাবেক এমডি ও জিএম আলাউদ্দীন এর পাশাপাশি অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রত্যেক পরীক্ষার্থীরাও সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এর মতো স্পর্শকাতর চাকুরিতে এমন ভয়াবহ জাল জালিয়াতি, ঘুষের লেনদেন, অনৈতিক ও অবৈধ কাজে অংশ নিয়ে গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত, যা তদন্তে সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জিএম মো: আলা উদ্দীনের বাড়ি ময়মনসিংহ বিভাগে হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের আওতাধীন ৪টি জেলার জন্য নির্ধারিত কোটার ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রযোজ্য কোটা সংক্রান্ত বিধান উপক্ষো করে এবং তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ময়মনসিংহ বিভাগের ৪টি জেলার জন্য মোট ২৭ টি পদে নিয়োগের বিপরীতে ৪০ জনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।  উত্থাপিত অভিযোগ ও অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগ কার্যক্রমে অনৈতিক অনিয়মের মাধ্যমে ঘুষের অর্থ সংগ্রহ ও তার ভাগ বাটোয়ারার ক্ষেত্রে ব্যাংকের জিএম মো: আলা উদ্দীন প্রত্যক্ষভাবে মূল ভূমিকা পালন করেন।

জাল জালিয়াতি, নিয়োগ বাণিজ্য, ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে জিএম মো: আলা উদ্দীন মিরপুর মাটিকাটা ভাষানটেক সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন এমন অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, অবৈধ অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জিএম মো: আলা উদ্দীন কানাডায় বসবাসরত তার ছেলের নিকট পাচার করেছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে কর্মচারীদের বদলি ও পদায়ন, হাউজ বিল্ডিং লোন মঞ্জুরের ক্ষেত্রে বৈষম্যকরন সহ জিএম মো: আলা উদ্দীনের বিরুদ্ধে  বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সুস্পষ্ট ভাবে অভিযুক্ত দায়ী হিসেবে চিহ্ণিত অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও জিএম মো: আলা উদ্দীনের নিজের দূর্নীতির সিন্ডিকেটের লোক হওয়ায় নিরীক্ষা তদন্তে অভিযুক্ত এসকল অসাধু শ্রেণির কর্মচারীদের দায়মুক্তি প্রদান ও প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তি থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরচিালককে তিনি বিভ্রান্তিকর বা অসর্ম্পূণ তথ্য উপস্থাপন করে প্রভাবিত করেন এবং বিভাগীয় আপিল ও শৃঙ্খলা (ডিএসি) কমিটির কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুকূলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ব্যাপক দূর্নীতি, নিয়োগ জাল জালিয়াতি, ঘুষ ও পদোন্নতি বাণিজ্যে, ব্যাংকে চলমান ব্যাপক অনিয়ম, চরম রাজনৈতিক দূবৃত্তায়ন ও বৈষম্যের সার্বিক অবস্থার বিবেচনায় গত ২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা এবং রাষ্ট্রমালিকানাধীন বানিজ্যিক ব্যাংক শাখার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিগত সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত এমডি শেখ মো. জামিনুর রহমান এর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বাকী মেয়াদ বাতিল করা হয়। অথচ বিগত সরকারের সময়ে একইভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত দূর্নীতির সিন্ডিকেটের মূল হোতা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বর্তমান জিএম আলাউদ্দীন রয়েছেন বহাল তবিয়তে এবং পাচ্ছেন প্রমোশন। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও দূর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ পাচার ও পেশাদারী প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ বহির্ভূত কার্যকলাপের গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও র্কমর্কতা-র্কমচারীদের র্স্বাথ সুরক্ষার জন্য উত্থাপিত গুরুতর অভিযোগসমূহ দ্রুত, নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত তদন্ত করা প্রয়োজন।

অর্থনীতি- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত