প্রকাশ: রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৫ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা । ছবি: যাযাদিঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে ৫৫টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। কোথাও প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে, কোথাও চলছে মাটির প্রলেপ দেওয়া, অবয়ব গঠন ও অলংকার তৈরির কাজ। পাশাপাশি মণ্ডপ সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সভাপতি গৌর বসাক বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি ও আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মৃৎশিল্পী খির প্রশাদ বলেন, ১১ অক্টোবর থেকে নবরাত্রি শুরু হয়েছে। তবে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে শুক্রবার থেকে। এবার তিনি ভাদ্র মাস থেকেই আটটি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। প্রতিটি প্রতিমার জন্য ৩০ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পরিশ্রমের তুলনায় এ পারিশ্রমিক খুব বেশি নয় বলে জানান তিনি।
বাজেবকসা মণ্ডপের সভাপতি হৃদয় মাস্টার বলেন, দুর্গাপূজা তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবারও আনন্দ, উৎসাহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে। পূজাকে ঘিরে নতুন পোশাক কেনাকাটাসহ নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।
তবে অর্থসংকটের কারণে মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির ঘরে টিনের চালা দিতে হয়েছে বলে জানান হৃদয় মাস্টার। সরকারি আর্থিক সহায়তা পেলে ভবনটির ছাদ নির্মাণের ইচ্ছা রয়েছে তার।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ বারী বলেন, এবার উপজেলায় ৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২১টি মণ্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতিটি মণ্ডপে আনসার ও গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি পুলিশের বিটভিত্তিক টহল দলও কাজ করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওসি।