প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
ছবি-যাযাদি সারাদেশের ঋতু পরিক্রমায় শরৎকাল শেষের দিকে হেমন্তকালের আগমনে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকায় হাল্কা শীতের আগমন টের পাওয়া যাচ্ছে। ধনুকর বা লেপ-তোষকের কারিগররা শীতের আগমনের আগেই এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
এবার একটু আগে থেকেই শীত নামতে পারে, তাই বাজারে বাজারে লেপ-তোষক ব্যবসায়ীদের ব্যাস্ততা বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন হাট বাজার ও দোকানে ব্যবসায়ীরা বিক্রির জন্য লেপ-তোষক মজুদ করে রেখেছেন। ভালুকা শিল্পাঞ্চল এলাকা হওয়ায় লাখ-লাখ মানুষের অবস্থান এখানে। তাই লেপ-তোষকের চাহিদাও বেশী বলে কারিগররা জানান।
এদিকে আশ্বিনের বৃষ্টির পর কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা বাতাস ও হালকা কুয়াশা পড়ছে। দিনে সূর্যের আলো থাকলেও সন্ধ্যার পর হালকা কুয়াশায় চারদিকে শীতের আগমনের সংবাদ দিচ্ছে। নভেম্বর মাসের শুরু থেকে শীত নামতে শুরু করলেও অক্টোবর থেকেই শীতের আমেজ পাওয়া যায়। আগাম শীতের কারণে বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় খুশি ধুনকররা। আগেভাগেই লোকজন নিজের পরিবারের সদস্যদের জন্য লেপ-তোষক সংগ্রহ করেছেন। লেপ-তোষক তৈরির অগ্রিম বায়না নিচ্ছেন কারিগররা। ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে, খোলাবাজারে লেপ তোশক তৈরিতে ব্যবহৃত তুলার দাম কিছুটা বেড়েছে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারনে বাজারে গত বছরের তুলনায় এ বছর তুলার মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ধনুকররা।
অন্যদিকে ভালুকার গ্রামাঞ্চলের গৃহবধূরা শীতের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পুরান কাঁথা, কম্বলগুলো জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করেছেন। একটি লেপ বানাতে প্রকারভেদে ১৮শ টাকা থেকে ২হাজার, ২২শ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে বলে জানান এক ক্রেতা।
উপজেলার আমতলী বাজারের দোকানদার শফিকুল ইসলাম জানান, গত বার ১৫শ/২ হাজার টাকায় যে লেপ বানানো হয়েছিল এবার সেটা ১৮/২৫শ টাকা খরচ পড়ছে। সিডস্টোর বাজারের লেপ তোষক ব্যবসায়ী আলম জানান, তার দোকানে ১৬০ টি ছোট বড় আকারের লেপ তোষক স্টকে রাখা আছে এবং অর্ডার নিয়ে তৈরী করা হচ্ছে।
তিনি যায়যায়দিন ভালুকা উপজেলা প্রতিনিধি সফিউল্লাহ আনসারীকে আরো জানান, এখন শীত পুরোপুরি না পরায় একটু কম বিক্রি হলেও ধীরে ধীরে আমাদের বেচাকেনা বাড়বে। নভেম্ব-ডিসেম্বরে তীব্র শীত পড়লে বেচাকেনা আরো বেশি বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন এই দোকানী।