প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫২ পিএম
ছবি-যাযাদি শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও পূজামণ্ডপের প্রস্তুতি সরেজমিনে দেখতে রাতে নেত্রকোণা শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম।
গতকাল রবিবার রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তাঁরা এ পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে পূজার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজ নেন তাঁরা।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত তৎপরতার অংশ হিসেবে এ পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি এবং শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। উৎসব চলাকালে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট সবার সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে তিন ধাপে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট প্রস্তুত রাখার বিষয়টিও নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ।
তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কিশোর গ্যাং, মাদকসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নজরদারি ও প্রয়োজনীয় অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, পুলিশ, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
রাতের এই পরিদর্শনের মাধ্যমে পূজামণ্ডপের প্রস্তুতি ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। উৎসবের প্রতিটি পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম লক্ষ্য।