ছবি: যাযাদিকুমিল্লার দাউদকান্দিতে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও দুই ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘর থেকে নগদ পাচ লাখ টাকা ও এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন লুটের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাচটার দিকে উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের শ্রীরায়েরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে কবির হোসেন (৪০) ও মামুন মিয়া (২৫) আহত হন। অভিযোগকারী মেহেদী হাসানের (২৪) দাবি, হামলার সময় কবির হোসেনের মাথায় চাইনিজ কুড়াল এবং মামুন মিয়ার মাথায় রামদা দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের মাথায় যথাক্রমে ২২টি ও ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আপন মিয়া, বাতেন মিয়া, বিল্লাল মিয়া, সুফি মিয়া ওরফে হৃদয়, আরমান মিয়া, রনি মিয়া, ফয়সাল মিয়া ও মেহেদী মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
মেহেদী হাসানের অভিযোগ, হামলার সময় তার চাচাতো বোন মাহমুদা বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। এ সময় তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া ঘরের আলমারিতে রাখা নগদ পাচ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। বসতঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুরে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আহত কবির হোসেন ও মামুন মিয়াকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।
মেহেদী হাসানের দাবি, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ভয়ভীতি দেখান। ভবিষ্যতে এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশসহ আরও ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহের সময় স্থানীয় বাসিন্দা শাহপরান, মোরশেদা বেগম, নাসরিন আক্তার ও রোকসানাসহ কয়েকজন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তদের কয়েকজন চড়াও হন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।