টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে পাঠানো দুই সাংবাদিক হাদি চকদার ও আরিফুজ্জামান তপু । ছবি: যাযাদিটাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে দায়ের করা একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণের পর দুই সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চ্যানেল এসের সাংবাদিক হাদি চকদার ও কালের কণ্ঠের ভূঞাপুর প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান তপু আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। এদিকে, মামলায় উল্লিখিত নগদ ও ব্যাংক হিসাবের মালিকানা এবং ওই লেনদেনের সঙ্গে সাংবাদিকদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
ভূঞাপুর থানায় দায়ের করা মামলাটির নম্বর ৯। গত ১০ অক্টোবর দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪২, ৩৬৫, ৩৮৪, ৩৮৬, ৩৮৯ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়।
মামলার অভিযোগে আর্থিক লেনদেনের যে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, তার সঙ্গে সাংবাদিক হাদি চকদার ও আরিফুজ্জামান তপুর সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করা হয়েছে সংবাদে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা তদন্তের ফলাফল এখানে উল্লেখ নেই।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে মামলার বাদী মাহিনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রতারণা ও স্ক্যামিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, মাহিনের বৈধ আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাহিন বা অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ডিজিটাল প্রতারণার তথ্যচিত্র ধারণ করার পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলকভাবে মামলা করা হয়েছে। মাহিন, নিজাম ও শাকিল মিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে মামলা করানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক হাদি চকদার ও আরিফুজ্জামান তপু দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের ভাষ্য, পর্নোগ্রাফি ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল স্ক্যামিং-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রকাশের কারণে তাদের ফাসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁরা আইনি প্রক্রিয়ায় নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা নগদ ও ব্যাংক হিসাব দুটির প্রকৃত মালিকানা এবং ওই লেনদেনের সঙ্গে সাংবাদিকদের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে। বাদীর অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হলে বা ভুয়া তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের ফাসানোর চেষ্টা হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।