ছবি: যাযাদিখুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় কেনা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, জীবননাশের হুমকি ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. বাহাদুর মুন্সি। এ ঘটনায় সৈয়দ ইস্তিয়াক হাসান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বাহাদুর মুন্সি। এ সময় তিনি নিজের কেনা জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কথিত হুমকির ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাহাদুর মুন্সি জানান, তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা গ্রামের মো. মোফাজ্জেল মুন্সির ছেলে। উপজেলার এক নম্বর জলমা ইউনিয়নের রাঙ্গেমারী মৌজায় ২১৬৩ দাগের আরএস ৪১১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত আট শতক জমি খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের কাছ থেকে কিনেছেন।
বাহাদুর মুন্সির দাবি, জমিটির আগের মালিক আবুল হোসেন আরএস ৪১১ নম্বর খতিয়ান থেকে পৃথক আরএস ৬০৮৯ নম্বর খতিয়ান তৈরি করে জমিটি ভোগদখলে রেখেছিলেন। পরবর্তী বিডিএস জরিপে বুজরত ১০৮২৮ নম্বর খতিয়ানের বিডিএস ১৯০৭৩ নম্বর দাগে দখল অনুযায়ী জরিপ সম্পন্ন হয়। পরে ২০২৫ সালের এক জানুয়ারি বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ০৫/২৫ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে আবুল হোসেন তাঁর কাছে জমিটি বিক্রি করেন।
তিনি আরও জানান, জমি কেনার পর আরএস ২৫/৭৭৬৬ নম্বর পৃথক খতিয়ানে নামজারি করেন এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ব্যবস্থা করেন। এরপরও তাঁকে জমি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বটিয়াঘাটা থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নাসিমা হাসান গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় এমপি-২৩৭/২৬ নম্বরে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় বাহাদুর মুন্সি তিন নম্বর আসামি ছিলেন।
বাহাদুর মুন্সির দাবি, আদালতের নির্দেশে বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ জমিটির দখলসংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই মো. জাকির হোসেন ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দাখিল করা প্রতিবেদনে তাঁকে জমিটির ভোগদখলে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনটির স্মারক নম্বর ৩৪৫০ বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বাহাদুর মুন্সি অভিযোগ করেন, সৈয়দ ইস্তিয়াক হাসান বিভিন্ন সময়ে তাঁকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এ কাজে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সহযোগিতা করছেন বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাহাদুর মুন্সি আরও দাবি করেন, একই জমি নিয়ে নাসিমা হাসান পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় এমপি-৫০২/২০২৬ নম্বরে আরেকটি মামলা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খানসহ বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম, এক নম্বর জলমা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বাদল হাওলাদার, সুরখালী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ইউনুছ কাজী, জলমা ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা শামিম এবং ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. আলাউদ্দিনসহ অন্যরা।