ছবি-যাযাদি খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন গড়ে তোলার এক অনন্য উপলক্ষ। সেই চেতনাকে ধারণ করে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিতে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেড় মাসের দীর্ঘ পথচলা শেষে ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে খেলার মাঠ। প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে মাঠে সমবেত হন হাজারেরও বেশি দর্শক। তাঁদের উচ্ছ্বাস, করতালি আর আনন্দধ্বনিতে সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত ক্রীড়ামুখর পরিবেশ।
গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ২ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনালে মুখোমুখি হয় ফারংপাড়া একাদশ ও চক লেংগুড়া একাদশ। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল জয়ের প্রত্যয় ও লড়াকু মনোভাব। মাঠের প্রতিটি মুহূর্তে দর্শকদের আগ্রহ আর উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের ব্যবধানে চক লেংগুড়া একাদশকে পরাজিত করে ফারংপাড়া একাদশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিজয়ের আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন বিজয়ী দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।
টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য প্রথম পুরস্কার হিসেবে রাখা হয় একটি এলইডি টেলিভিশন এবং রানার্সআপ দলের জন্য একটি ছাগল। পুরস্কারের এ আয়োজন খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শকদের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি করে।
খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, ২ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন এবং সমাজসেবক মঞ্জুরুল হক মঞ্জু।
আয়োজক কমিটির রয়েছেন ২ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হাসান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মফিদুল ইসলাম। এ ছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের এ উদ্যোগে ফুটবল হয়ে ওঠে মিলন, আনন্দ ও সৌহার্দ্যের এক অভিন্ন উপলক্ষ। দীর্ঘ দেড় মাস ধরে চলা টুর্নামেন্টের শেষ লড়াইকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তরুণদের মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে তৈরি হয় সম্প্রীতির আবহ।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদনের প্রতি আগ্রহী করবে। পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানো, পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদার করা এবং সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে এ আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দেড় মাসের প্রতীক্ষার পর ফাইনালের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের পর্দা নামলেও মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আনন্দ, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর খেলোয়াড়দের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন স্মৃতি হয়ে থাকবে।