শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার

জুবাইয়া বিন্তে কবির

মতামত

শরৎ মানেই নির্মলতার কবিতা। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, ভোরের শিশিরে শিউলির লুটিয়ে পড়া, দিগন্তজোড়া কাশবনে হাওয়ার আলোড়ন প্রকৃতির এই

2026-10-17T19:00:38+06:00
2026-10-17T19:00:38+06:00
শনিবার ● ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
মতামত
তারেক রহমানের নেতৃত্বে সাম্যের বাংলাদেশ
শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার
জুবাইয়া বিন্তে কবির
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০০ পিএম  
প্রতীকী ছবি
শরৎ মানেই নির্মলতার কবিতা। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, ভোরের শিশিরে শিউলির লুটিয়ে পড়া, দিগন্তজোড়া কাশবনে হাওয়ার আলোড়ন প্রকৃতির এই অপরূপ আয়োজনের মাঝেই বেজে ওঠে দেবীপক্ষের আগমনী সুর। বাঙালির প্রাণে জাগে এক অনির্বচনীয় আনন্দের শিহরণ। এই আনন্দ শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের নয়, এ আনন্দ আপামর বাঙালির, এই উৎসব গোটা বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, এদেশে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখেরও বেশি সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিক বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭.৯৫%। সারাদেশে এবছর ৩৩ হাজারের অধিক পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর হাসি-আনন্দ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা কোনো করুণা নয়, এটি রাষ্ট্রের পবিত্রতম দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধের যে উজ্জ্বলতম রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, তার নাম জিয়া পরিবার। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই এই ভূখণ্ডে প্রথম শিখিয়েছিলেন "আমরা সবাই বাংলাদেশি"। এই একটি শব্দের মধ্যে তিনি ধারণ করেছিলেন মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড়ি-সমতলের সকল মানুষের সমান রাষ্ট্রীয় পরিচয়। তাঁর সুযোগ্য সহধর্মিণী, গণতন্ত্রের আপসহীন প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে রমনা কালীমন্দিরের মতো ঐতিহাসিক উপাসনালয় পুনর্নির্মাণ থেকে শুরু করে মন্দিরভিত্তিক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। আজ সেই ঐতিহাসিক ধারারই সুযোগ্য উত্তরসূরি, জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান তাঁর প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও মানবিক নেতৃত্বে সেই অসমাপ্ত স্বপ্নকে পূর্ণতা দিচ্ছেন। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত মন্ত্র "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার" আজ আর কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি কোটি মানুষের হৃদয়ে নিরাপত্তা ও আস্থার আশ্রয় হয়ে উঠেছে। এই লেখাটি শুধু একটি শারদীয় শুভেচ্ছা নয়, এটি জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের সাম্যের রাজনীতি, সম্প্রীতির অঙ্গীকার এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার নিরন্তর প্রয়াসের এক বিনম্র মূল্যায়ন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বহুত্বের জায়গা : বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণাকে তুলে ধরে। এই ধারণার একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—ভাষা, ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়ে বাংলাদেশের সব নাগরিকের অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে জাতীয় ঐক্যের আদর্শ তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা বাস্তব জীবনে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তায় প্রতিফলিত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় পরিচয়কে সম্মান করার পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার এবং সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নেওয়ার অর্থ তাই কেবল তাঁর নাম স্মরণ করা নয়; বরং এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে কোনো মানুষকে নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে বাঁচতে হবে না, কোনো উপাসনালয় থাকবে না আতঙ্কের মধ্যে এবং কোনো নাগরিককে সংখ্যাগরিষ্ঠের দয়ার ওপর নির্ভর করে অধিকার ভোগ করতে হবে না। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সবচেয়ে মানবিক প্রকাশ হবে এমন একটি সমাজ, যেখানে বৈচিত্র্য বিভেদের কারণ নয়, বরং সম্মিলিত শক্তির উৎস।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া: সম্প্রীতির অঙ্গীকার ও বাস্তব উদ্যোগ : বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সব ধর্মের নাগরিকের সমান অধিকারের প্রসঙ্গ একাধিকবার উঠে এসেছে। ২০০৬ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের কথা তিনি বলেছিলেন। ২০১৩ সালের ১৯ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিএনপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্যে বিশ্বাস করে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি রমনা কালীমন্দির পুনর্নির্মাণ এবং মন্দিরভিত্তিক গ্রন্থাগার স্থাপনের কথাও উল্লেখ করেন। এসব বক্তব্য ও উদ্যোগকে বিএনপির সম্প্রীতিবিষয়ক রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যায়। একই সঙ্গে একটি গণতান্ত্রিক দলের জন্য জরুরি হলো অতীতের ইতিবাচক উদ্যোগের পাশাপাশি যেকোনো সময়, যেকোনো সরকারের আমলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত অন্যায় ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নীতিগতভাবে সোচ্চার থাকা। কোনো মন্দির পুনর্নির্মাণ কিংবা শুভেচ্ছা বিনিময় নিঃসন্দেহে ইতিবাচক; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে অপরাধের বিচার, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, সম্পত্তির অধিকার রক্ষা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে আরও অর্থবহ করে তোলার পথ সেখানেই।

তারেক রহমানের সম্প্রীতির বার্তা: শুভেচ্ছা থেকে জনসম্পৃক্ততার উদ্যোগ : বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের বক্তব্য ও উদ্যোগে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান নাগরিক অধিকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গত ৭ অক্টোবর হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বার্তার মূল দর্শন—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর তিনি রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের তিনটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাবেন। সফরসূচিতে রয়েছে রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দির বা রংপুর ধর্মসভা, দুপুর দেড়টায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির এবং সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন। একই দিন বেলা ৩টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জনসভায়ও তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। দেশের তিনটি অঞ্চলে এই কর্মসূচি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও তাঁদের প্রত্যাশা শোনার একটি সুযোগ। আমি বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে প্রত্যাশা করি, প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের এই উদ্যোগ সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে এবং ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

দুর্গাপূজার ছুটি ও অনুদান: অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের ইতিবাচক পদক্ষেপ : ধর্মীয় উৎসবের সময় ছুটি বৃদ্ধি, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এসব উদ্যোগ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উৎসব উদযাপনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এবারের দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোর উদ্যোগকে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা স্বাগত জানিয়েছেন। দুর্গাপূজার জন্য সরকারি অনুদান পাঁচ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উৎসবের জন্য তিন কোটি টাকা নির্ধারণের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের এসব উদ্যোগকে আমিও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রচিন্তার প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করি। কারণ, ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের জন্য সময়, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া নাগরিকদের মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সরকারি অনুদান যেন স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগতভাবে বণ্টিত হয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট পূজামণ্ডপগুলোও যেন যথাযথ সহায়তা পায় এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য না থাকে সেদিকেও নজর দিতে হবে। অনুদানের পরিমাণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছায়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু উৎসবের সময় পাশে দাঁড়ানো নয়; বরং সারা বছর সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা।

দুর্গা, নজরুল ও ইসলামের শিক্ষা: মানবতার ঊর্ধ্বে কোনো বিভেদ নয় : সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভশক্তির বিজয়ের প্রতীক। এই প্রতীকী তাৎপর্যকে বৃহত্তর মানবিক পরিসরে দেখলে অন্যায়, নিপীড়ন, হিংসা ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে মানুষের সম্মিলিত অবস্থানের বার্তা পাওয়া যায়। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর সাম্যবাদী চেতনায় মানুষকে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। তাঁর ‘সাম্যবাদী’ কবিতার অমর পঙ্‌ক্তি—“গাহি সাম্যের গান”—আজও বিভাজনের বিরুদ্ধে মানবতার শক্তিশালী আহ্বান। ইসলামের শিক্ষাতেও ন্যায়বিচার, প্রতিবেশীর অধিকার, দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র আল কোরআনের সুরা আল-বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “ধর্মের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।” এই নীতির তাৎপর্য হলো, বিশ্বাসের প্রশ্নে মানুষের বিবেক ও স্বাধীনতাকে সম্মান করা। তাই কোনো ধর্মের নামে অন্য ধর্মাবলম্বীকে অপমান করা, উপাসনালয়ে হামলা চালানো কিংবা কারও ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে নৈতিক, সহনশীল ও দায়িত্বশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে। একজন মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাস যেমন সম্মানের দাবিদার, তেমনি একজন হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টানের বিশ্বাসও সমানভাবে সম্মানযোগ্য। আমার কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রকৃত অর্থ হলো—নিজের ধর্ম পালন করার স্বাধীনতা ভোগ করার পাশাপাশি অন্যের সেই স্বাধীনতা রক্ষায়ও সচেতন থাকা।

বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পরীক্ষা: কথার সঙ্গে কাজের মিল : বিএনপির নেতৃত্ব ধর্মীয় সম্প্রীতি, সমান নাগরিক অধিকার এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কথা বলেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য ও উদ্যোগের ইতিবাচক দিকগুলো এই রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা যায়। তবে একটি রাজনৈতিক দলের বিশ্বাসযোগ্যতা শুধু শুভেচ্ছাবার্তা, সভা-সমাবেশ কিংবা ঘোষণার মাধ্যমে স্থায়ী হয় না; তার প্রমাণ দিতে হয় মাঠপর্যায়ের আচরণে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব হবে ধর্মীয় উৎসবের সময় সম্প্রীতি রক্ষায় সহযোগিতা করা, কোনো উসকানিতে পা না দেওয়া, সংখ্যালঘু প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করা। একই সঙ্গে দলের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিদ্বেষ, চাঁদাবাজি, জমি দখল কিংবা সহিংসতার অভিযোগ উঠলে তা দলীয় পরিচয়ের আড়ালে রাখার সুযোগ থাকা উচিত নয়। নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই দলের অঙ্গীকারের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে। আমি বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে আমার নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ চাই, আমার রাজনৈতিক পরিচয় যেন মানুষের মনে আস্থা, নিরাপত্তা ও সহমর্মিতার অনুভূতি তৈরি করে।

পরিশেষে, দুর্গোৎসব আমাদের শেখায় অন্ধকারের বুক চিরে আলোর বিজয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের উত্থান। দেবী দুর্গার দশ হাতে যেমন দশ দিক থেকে অশুভকে প্রতিহত করার শক্তি, তেমনি তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেখছি একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার দশমুখী প্রয়াস। শহীদ জিয়ার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের উদার আকাশ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রামে লালিত মমতা, এবং জননন্দিত তারেক রহমানের তারুণ্যদীপ্ত, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রচিন্তা এই তিনের অপূর্ব মেলবন্ধনই আজ সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের মনে নতুন আশার প্রদীপ জ্বেলেছে। দুর্গাপূজার ছুটি বৃদ্ধি, পাঁচ কোটি টাকার বিশেষ অনুদান, প্রতিটি মণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের মণ্ডপে মণ্ডপে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর ছুটে যাওয়া প্রমাণ করে, রাষ্ট্র কেবল উৎসবের দিনে নয়, ৩৬৫ দিনই তার সকল সন্তানের পাশে আছে। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের ইতিহাসে ধর্মীয় বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন। দেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, সাহিত্য ও সামাজিক উন্নয়নে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অবদান রয়েছে। তাই বাংলাদেশকে কোনো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একক আবাসভূমি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি সব নাগরিকের অভিন্ন রাষ্ট্র। মা দুর্গার আশীর্বাদে এবং জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ হয়ে উঠছে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির এক অনন্য তীর্থভূমি। পাশাপাশি দেশের সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও তরুণ প্রজন্মকে সম্প্রীতি রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শরতের স্নিগ্ধ আলোয়, ঢাকের মঙ্গলধ্বনিতে মুছে যাক সকল গ্লানি, বিদ্বেষ ও বিভাজন। সনাতন ধর্মাবলম্বী সকল ভাই-বোনকে জানাই শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমীর প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন। 

লেখক : জুবাইয়া বিন্তে কবির 
অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
মতামত- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত