প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৩ পিএম আপডেট: ১৭.১০.২০২৬ ৭:২৯ পিএম
ছবি: যাযাদি কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্যসংকট মোকাবিলার পাশাপাশি খাদ্যের গুণগত মান ও পুষ্টি নিশ্চিত করা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ জন্য কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের মিলনায়তনে বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসছে। চালের পাশাপাশি শাকসবজি ও ফলমূলের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষি উৎপাদনের ধরন ও পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
কৃষিতে কীটনাশক ও ভারী ধাতুর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, অধিক ফলনের আশায় অনেক ক্ষেত্রে ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এর ফলে খাদ্যদূষণের ঝুঁকি বাড়ে, যা জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং তাঁদের সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে কোন মৌসুমে কী পরিমাণ কৃষিপণ্য উৎপাদিত হবে এবং বাজারে সেসব পণ্যের চাহিদা কতটা থাকবে, তা নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো সম্ভব হবে।
কৃষির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কৃষির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে পারলে কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই খাতে পরিণত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান ড. খোন্দকার মো. ইফতেখারুদ্দৌলা।
এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আজকের উদ্ভাবন, আগামী দিনের সমৃদ্ধি’ (Innovate Today, Nourish Tomorrow)।