প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম
আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী খড়মপুর কল্লা শহীদ (রহ.) মাজার শরীফ।চারপাশে তখনো হালকা অন্ধকার। পূর্ব আকাশে সূর্য ওঠার অপেক্ষা। নীরব ভোরে হঠাৎই শুরু হয় এক অন্যরকম কর্মযজ্ঞ। মাজারের এক সেবক উঠানে ছড়িয়ে দেন ধান, গম, রুটি। মুহূর্তের মধ্যেই কোথা থেকে যেন উড়ে আসে অসংখ্য কাক, কবুতর, দোয়েল ও চড়ুই পাখি। খাবার খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তারা। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। পাখিদের খাবার খাওয়ার এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অনেকেই মুগ্ধ হয়ে দেখেন। পাখিদের খাবার খাওয়া, ডানা ঝাপটানো আর কিচিরমিচির শব্দে সৃষ্টি হয় অপূর্ব দৃশ্য। প্রতিদিন ভোরে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী খড়মপুর কল্লা শহীদ (রহ.) মাজার শরীফে।
জানা গেছে, দীর্ঘ বহু বছর ধরে পাখিদের জন্য খাবার দেওয়ার এ রীতি চলে আসছে। মাজারের খাদেমরা নিয়মিত পাখিদের খাবার দেন। পাশাপাশি মাজারে আসা ভক্ত-আশেকানদের কেউ কেউ ভালোবেসে পাখিদের জন্য খাবার নিয়ে আসেন। প্রতিদিন ৩/৪ কেজি ধান, চাল, গম ও কয়েকটি ব্রেড রুটি ঘি দিয়ে মাখিয়ে মাজার কম্পাউন্ডের উঠানে ছিটিয়ে দেন মাজারের সেবক।
ভোরের আলো ফোটার আগেই পাখিদের এই সমাগম খড়মপুর মাজার শরীফের পরিবেশে যোগ করেছে স্বতন্ত্র সৌন্দর্য। দীর্ঘ বহু বছর ধরে এভাবে নিয়ম করে পাখিদের খাবার দেওয়া হচ্ছে।
মাজারের খাদেম কাজী মাইনুদ্দিন বলেন, প্রতিদিন ভোরে পাখিদের জন্য খাবার দেওয়া হয়। হাজার হাজার কাক, কবুতর, দোয়েল ও চড়ুই পাখি খাবার খেতে আসে। সকালে খাবার খেয়ে পাখিগুলো বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। দিন শেষে সন্ধ্যার আগে আবার মাজারে ফিরে আসে। রাতে মাজার চত্বরের গাছগুলোতে আশ্রয় নেয় তারা।
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই মাজারে পাখিদের খাবার খাওয়া দেখে আসছি। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই পাখিদের খাবার দেওয়া হচ্ছে।
মাজারের সেবক মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রতিদিন ৩/৪ কেজি ধান, চাল, গম ও কয়েকটি ব্রেড রুটি ঘি দিয়ে মাখিয়ে দেই। হাজার হাজার কাক, কবুতর, দোয়েল ও চড়ুই পাখিসহ বিভিন্ন পাখি খাবার এসে খেয়ে যায়।
এ ব্যপারে খড়মপুর মাজার শরীফ কমিটির সদস্য মোঃ রনি খাদেম বলেন, বহু বছর ধরে পাখিদেরকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। আমি ছোট বেলা থেকেই দেখছি। পাখিদের খাবার খাওয়ার দৃশ্য দেখতে খুব ভালো লাগে। মনটা জুড়িয়ে যায়।