ছবি- যাযাদি নেত্রকোণার প্রত্যন্ত গ্রামে নারীদের হাতে তৈরি হচ্ছে পোশাক ও পরিবেশবান্ধব ব্যাগ। প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন পিছিয়ে পড়া নারীরা। স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা কামরুন্নাহার লিপির প্রতিষ্ঠিত ‘নারীনেত্র কারুপণ্য’ ঘিরে তৈরি হয়েছে এমনই এক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার নারীকে বুটিক ও দর্জির কাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার দাবি করেছেন এই উদ্যোক্তা। তাঁর উদ্যোগ সরেজমিনে পরিদর্শন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নেত্রকোণা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে অবস্থিত ‘নারীনেত্র কারুপণ্য’ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়াহিদুজ্জামান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিজা খাতুন।
প্রতিষ্ঠানটিতে শিশু ও বড়দের বিভিন্ন ধরনের পোশাক, ছেলেদের প্যান্ট ও টি-শার্টসহ চট ও টিস্যু কাপড়ের তৈরি পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন ব্যাগ উৎপাদন করা হয়। পিছিয়ে পড়া নারীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন কামরুন্নাহার লিপি। তাঁর উদ্যোগে প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘নারীনেত্র কারুপণ্যে এসে কাজের পরিবেশ আমার অত্যন্ত ভালো লেগেছে। বিশেষ করে, কামরুন্নাহার লিপি যেভাবে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছেন এবং তাঁদের কাজের প্রতি উৎসাহিত করছেন, তা প্রশংসনীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক।’
তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অফিশিয়াল পেজে কামরুন্নাহার লিপির সাফল্যের গল্প দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুপ্রাণিত ও অভিভূত হই। পরে তাঁর এই উদ্যোগের কথা আমাদের “নেত্রকোণা” ফেসবুক পেজে শেয়ার করি। নেত্রকোণায় যাঁরা ব্যতিক্রমী ও ভালো কাজ করছেন, তাঁদের উদ্যোগ ও সাফল্য সবার সামনে তুলে ধরা এবং আরও উৎসাহিত করাই আমাদের উদ্দেশ্য।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে তাঁর সাফল্যের গল্পটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও শেয়ার করা হয়েছে। তাঁরাও বিষয়টি দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে কোনোভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ানো বা সহযোগিতা করার সুযোগ থাকলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই চেষ্টা করা হবে।’
পরিদর্শন শেষে কামরুন্নাহার লিপির উদ্যোগের অগ্রযাত্রাকে সাধুবাদ জানান জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে ‘নারীনেত্র কারুপণ্য’ কীভাবে আরও এগিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগের সম্প্রসারণ ঘটলে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।