যমুনার চরে পলিসেড হাউজে মরিচ ও সবজির চারা উৎপাদন করে কৃষকের সবুজ বিপ্লব

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত পলিসেড হাউজে সারা বছর চলছে সবজির চারা উৎপাদন।

2026-09-20T12:36:12+06:00
2026-09-20T12:36:12+06:00
রোববার ● ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
যমুনার চরে পলিসেড হাউজে মরিচ ও সবজির চারা উৎপাদন করে কৃষকের সবুজ বিপ্লব
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম  
ছবি- যাযাদি
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত পলিসেড হাউজে  সারা বছর চলছে সবজির চারা উৎপাদন। পলিসেড হাউসে বছরব্যাপী সবজির চারা উৎপাদন করে কৃষিতে নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন কৃষকরা। 

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সারা বছর নিরাপদ সবজির চারা উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি পলিসেড হাউসে চাষাবাদে কৃষকদের এখন মুখে হাসি ফুটেছে। এ বিশেষ ব্যবস্থায় সারা বছরই সবজি চারা উৎপাদন করছেন কৃষকরা। গ্রীষ্মকালেও উৎপাদন হচ্ছে শীতকালীন সবজির চারা। 

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিস সুএে জানা যায়, পলিসেড হাউসে সবজির চারা উৎপাদনে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। তাপমাত্রাও থাকে নিয়ন্ত্রণে। থাকেনা কোন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ। জৈব সার প্রয়োগেই যথেষ্ট। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি  প্রযুক্তি সম্রসারণ প্রকল্পের আওতায়  সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নে ৩ টি পলিশেড হাউস তৈরি করে। 

মরিচের ও সবজি চারা উৎপাদনে বেশ সাফল্য পান কৃষক সন্জু মিয়া, আরিফ ও ইশতিয়াক হাসান আরিফ। সরকারি উদ্যোগে তৈরি করা কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে উচ্চ মূল্যের সবজি চারা ফলানোয় কৃষকরা হয়ে উঠছে স্বাবলম্বী। তাদের দেখা দেখি অন্য চাষিরাও এই পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জলবায়ু পরিবর্তনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে কৃষি। এমতাবস্থায় খাদ্য চাহিদা মেটাতে কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ। পলিসেড হাউস সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি নিয়ন্ত্রণ। পোকার আক্রমণ ও প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে ফসলকে রক্ষা করে। 

পলিসেড হাউস তৈরিতে সহনীয় তাপমাত্রা, পলিথিন, লোহা বা বাঁশ দিয়ে জমির চারপাশে পলি ঘেরা হয়। ওপরের অংশেও দিতে হয় পলিথিন। এতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত হয়। চারা উৎপাদনে জৈবসার, নারিকেলের খোসা পচিয়ে প্রাকৃতিক তন্তু, হালকা ওজনের পানি ধারণের ক্ষমতা রাখে। যাকে বলা হয় কোকোপিট। মাটির বিকল্প বা মাটিতে বীজতলা করতে হয়। পলিসেড হাউসে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যায়। কোকোপিট পানি ধরে রাখে। গাছকে আর্দ্র রাখে। পানিও দিতে হয় কমই। মাটিকে ঝরঝরে রাখে। শেকড়ে বাতাস পায়। ফলে পচনশীল রোগও কম হয়। পলিসেড হাউসে যেসব সবজি চাষ হয়। সেগুলোর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ হয়। 

ভেতরে চাষাবাদে পলিমাটি, ছাই, গোবর, খৈল মিশ্রণে প্রস্তুত হয় চাষের জমি। পলিথিনের ব্যবহারে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ভেতরে প্রবেশে বাধা পায়। অতিবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও চারা অক্ষত থাকে। পলিসেড হাউসে বছর জুড়ে ধনেপাতা, ফুলকপি, বেগুন, পাতাকপি, মরিচের  চারা উৎপাদন হয়। গ্রীষ্মকাল ও শীতকালেও সবজি চাষ হওয়ায় কৃষকের আয় হচ্ছে বছর জুড়েই। 

এই প্রযুক্তি ব্যবহারে সাফল্য পেয়েছেন সারিয়াকান্দি কাজলা ইউনিয়নে কুড়িপাড়া, জামথল চরের কৃষকরা। প্রায় ২ মাস আগে চরে  ১০ শতক জমির ওপর পলিসেড হাউস তৈরি করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর । সবজির উৎপাদনের দায়িত্ব নেন সন্জু। গত ৩ মাসে পলিসেড হাউসে সবজি ও মরিচের চারা উৎপাদন করে প্রায় ১ লাখ টাকা। সে ২ লাখ টাকা খরচ করে বিক্রি করেছে ৩ লাখ টাকার কিছু বেশি।  খরচ বাদে লাভ হয়েছে ১ লাখ টাকা। 

কৃষক সন্জু মিয়া বলেন, পলিসেড হাউজে বছর জুড়েই মৌসুম ভিত্তিক উন্নতমানের সবজির চারা বিক্রি করছেন। অসময়ে গ্রীষ্মকালীন মরিচের চারা বিক্রিতে ভাল লাভবান হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজার টাকার  মরিচের চারা বিক্রি করেছেন। আরও প্রায় ৩ লাখ টাকা মতো বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছে। প্রতিটি চারা তৈরিতে খরচ হয় ৭০ পয়সা। বিক্রি করছেন দেড় টাকা ২ টাকা করে। পলিসেড হাউসে ২ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন তারা বলেন, একাজেই তাদের সংসার চলে। 

স্থানীয়রা বলেন, অসময়ে সবজির চাহিদা বেশি থাকে। দামও বেশি থাকে। আগাম সবজি চারা উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। আগ্রহী কুড়িপাড়ার কৃষক  বাহারাম বাদশা বলেন, সারা বছর চারা উৎপাদন করা সম্ভব। দুর্যোগে ক্ষতির আশঙ্কা কম। কৃষকরা ও চারা নিয়ে লাভবান হচ্ছেন। বিক্রেতাও ভাল মুনাফা পাচ্ছেন। পলিসেড হাউস করার আশা আছে তার মনেও আছে যদি কৃষি অফিস সহযোগিতা করে তাহলে সে করবে।

সারুয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, পলিসেড মূলত উচ্চ ফলনশীল ফুল, ফল ও সবজির চারা উৎপাদন  হয়ে থাকে। এখান থেকে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া শেড থেকে আমরা অসময়ের সবজিও পেতে পারি। অসময়ে সবজি চাষ করে কৃষক অধিক লাভবান হচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে উচ্চমূল্যে সবজি বিক্রি করতে পারেন কৃষক। এ ছাড়া সারা বছরই চারাও পাওয়া যায়। দিনে দিনে বাড়ছে কৃষকদের আগ্রহ!

  বিষয়:   সারিয়াকান্দি  যমুনা  পলিসেড হাউজ 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত