ছবি- যাযাদি ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে ফেনীর পরশুরামে জোরদার করা হয়েছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে প্রতি শনিবার উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ড্রেন, নালা, সড়কের পাশ, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস-আদালতেও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ফেনী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলা-ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে পরশুরামে ১২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে ফেনী সদর উপজেলায় ৩১১ জন, দাগনভূঞায় ৪৫, সোনাগাজীতে ৩৯, ছাগলনাইয়ায় ২১ এবং ফুলগাজীতে ১৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।
পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁর নাম মো. রিয়াজ (২৫)। তিনি পরশুরাম পৌরসভার ছয়ঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, অন্যান্য উপজেলার তুলনায় পরশুরামে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম। তবে সতর্কতা হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিয়মিত মশারি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই শুধু শহরাঞ্চল নয়, গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। বাড়িঘরের আশপাশে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত পাত্র, টব, ড্রাম, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি, অপরিষ্কার ড্রেন ও নালায় এডিস মশার প্রজননের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ড্রেন ও জলাবদ্ধ এলাকায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণেও পরিবেশ নোংরা হচ্ছে।
পৌরসভার খোন্দকিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, পরশুরাম উত্তর বাজারের ব্রিজের আশপাশ ও নদীতে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে মশার উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হলে পৌরবাসী ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে অনেকটাই রক্ষা পেতে পারেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। কার্যক্রমের অগ্রগতিও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া জানান, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং অফিস-আদালতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ড্রেন, নালা ও পানি জমার সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী অক্টোবর মাসে পরশুরামে আগমনকে ঘিরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
পরশুরাম পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম. শাফায়াত আখতার নূর বলেন, জেলা প্রশাসনের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে প্রতি শনিবার বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।