ছবি-যাযাদিনেত্রকোণার পূর্বধলায় দুই লাখ টাকা ধার নিয়ে দীর্ঘদিনেও তা পরিশোধ না করা এবং পাওনা টাকা চাইতে গেলে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তুলসী রানী দে নামে এক নারী পূর্বধলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তবে অভিযোগটি পুরোপুরি সত্য নয় বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক। তাঁর দাবি, তিনি কারও কাছ থেকে সরাসরি দুই লাখ টাকা নেননি; নারীদের মাধ্যমে সংঘটিত সুদের টাকার লেনদেনের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ করা হয়েছে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী তুলসী রানী দে (৩৮) ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা। অপরদিকে অভিযুক্ত ফজলুল হক পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। পাশাপাশি বসবাসের সুবাদে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে তুলসী রানী দে দাবি করেন, ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে অভিযুক্তের বিশেষ প্রয়োজনে ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কোনো কাগজপত্র বা দলিল ছাড়াই নগদ দুই লাখ টাকা ধার দেন তিনি। পরে ওই টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এতেও পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।
সর্বশেষ নারান্দিয়া এলাকায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে অভিযুক্ত এক মাসের মধ্যে পাওনা টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ করেন তুলসী রানী দে।
একপর্যায়ে পাওনা টাকা চাইলে সুযোগমতো রাস্তাঘাটে পেলে খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। আমি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে সরাসরি দুই লাখ টাকা নিইনি। যে লেনদেনের কথা বলা হচ্ছে, সেটি নারীদের মাধ্যমে সংঘটিত সুদের টাকার একটি বিষয়। এ নিয়ে পূর্বধলা থানায় অভিযোগ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অভিযোগে যেসব স্থানীয় ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে সরাসরি বসে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্তে কারও অসত্য বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানার একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগটি বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা ও দুই পক্ষের দাবির সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।