ছবি-যাযাদিনাটোরের গুরুদাসপুরে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সড়কের বেড তৈরিতে নির্ধারিত অনুপাতে বালু ও ইটের খোয়া ব্যবহারের বদলে মাটি মিশ্রিত বালু, পুরোনো ও আধলা ইট ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে প্রতিবাদ ও নির্মাণকাজের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়া গ্রামীণ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে তাঁদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে কয়েকজন তরুণ নির্মাণকাজের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন। বিষয়টি নজরে এলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিলন মিয়া ঘটনাস্থলে যান। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কের বেডের একটি অংশ কোদাল দিয়ে খনন করে বালু, মাটি ও ইটের খোয়ার মিশ্রণ দেখান। এরপর উপজেলা প্রকৌশলী নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
উপজেলা প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, মশিন্দা শিকারপাড়া-সিনিয়র মাদ্রাসা-বাহাদুরপাড়া হয়ে খুবজীপুর ভায়া সাহাপুর পর্যন্ত ৫ দশমিক ২৫ কিলোমিটার এবং আনন্দনগর-সাহাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ৭৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে প্রায় আট কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। নাটোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাবিবুর আলম কাজটি পেয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ সড়ক দুটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিলন মিয়া বলেন, শিডিউল অনুযায়ী প্রথমে সড়কে ১০ ইঞ্চি বালুর স্তর দেওয়ার কথা। এর ওপর ৭ ইঞ্চি বালুর সঙ্গে সমপরিমাণ ইটের খোয়া মিশিয়ে বেড তৈরি করতে হবে। এরপর ৬ ইঞ্চি পাথরের ঢালাই দেওয়ার কথা রয়েছে। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে তাঁর দপ্তরের আপস নেই। শিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে মোবাইল ফোনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির প্রথম স্তরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ফেলা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় স্তরে বালুর সঙ্গে ইটের খোয়া মেশানোর অংশে বালুর সঙ্গে মাটি মিশ্রিত অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে নির্ধারিত অনুপাতে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়নি। কিছু জায়গায় পুরোনো ও আধলা ইটও পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের বেড তৈরিতে শিডিউল অনুযায়ী বালু ও ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে মাটি মিশ্রিত বালু, পুরোনো ও আধলা ইট ব্যবহার করা হচ্ছিল। তাঁদের অভিযোগ, বালু-মাটির মিশ্রণের ওপর পুরোনো ইট ছড়িয়ে সেগুলো ভেঙে খোয়া হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ, মিজানুর রহমান ও মো. আলামিন বলেন, কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে অনিয়ম করছেন। এ কারণে তাঁরা প্রকৌশলী ও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে সড়কের বেড খনন করে বালু, মাটি ও খোয়ার মিশ্রণ দেখান।
এলাকাবাসীর দাবি, শিডিউল অনুযায়ী সমপরিমাণ বালু ও ইটের খোয়া ব্যবহার করে সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। দীর্ঘদিনের দাবি ও নিজেদের অর্থসহায়তায় সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম তাঁরা মেনে নেবেন না। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে সড়কের স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁদের।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মো. রুহুল আমিন বলেন, কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রকৌশল দপ্তরের টিম দিয়ে এবং প্রয়োজনে ল্যাবরেটরিতে নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষা করা হবে। নিয়ম অনুযায়ীই মালামাল ব্যবহার করা হবে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখতে নিম্নমানের কোনো সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হবে না।