বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় নবীন শিক্ষার্থীদেরকে র্যাগিংয়ের অপরাধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে এক বছর একাডেমিক বহিষ্কার অথবা অর্থদণ্ড দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির স্বাক্ষরিত আলাদা আলাদা চিঠিতে শাস্তির বিষয়টি জানানো হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অপরাধের মাত্রানুযায়ী এই শাস্তি আরোপ করা হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।
আইন বিভাগের ৫ জন, মার্কেটিং বিভাগের ১৯জন, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০জনসহ চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ৪৮ শিক্ষার্থীকে তিন ক্যাটাগরিতে শাস্তি দেয়া হয়েছে। কাউকে ১বছরের বহিষ্কার বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, কাউকে ৬ মাসের বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা। বাকিদের শুধুমাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানার শাস্তি দেয়া হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন-
মার্কেটিং বিভাগের সর্বোচ্চ ১৯ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন,
দিদারুল ইসলাম (রোল: ২৫০৩০১০০৪)। এস. এম. সাইফুজ্জামান (রোল: ২৫০৩০১০০২)। ঐশী মহন্ত (রোল: ২৫০৩০১০০৭)। কিশোর কুমার দত্ত** (রোল: ২৫০৩০১০১৮)। মোঃ সবুজ মিয়া (রোল: ২৫০৩০১০২০)। জান্নাতুল বুশরা জুনি** (রোল: ২৫০৩০১০২১)। তাশফিক কবির রাফি (রোল: ২৫০৩০১০৩৫)। নূরনবী (রোল: ২৫০৩০১০৪২)। আলিফ হোসেন নয়ন (রোল: ২৫০৩০১০৫০)। আজিজুল ইসলাম চয়ন (রোল: ২৫০৩০১০৫২)। সাদিয়া বেগম (রোল: ২৫০৩০১০৫৫)। স্নেহা আক্তার (রোল: ২৫০৩০১০৫৭)। মোঃ খালেদ হোসেন (রোল: ২৫০৩০১০৬৪)। রিফাত হাওলাদার (রোল: ২৫০৩০১০৬৫)। সৌরভ মালী (রোল: ২৫০৩০১০৭২)। হাসিব শেখ (রোল: ২৫০৩০১০৭৩)। ফারিয়া শিমুল কলি (রোল: ২৫০৩০১০৭৫)
কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ জন শিক্ষার্থীকে এই শাস্তির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।তারা হলেন,
মোঃ মুজাহিদ হাওলাদার (রোল: ২৫০১০২০০৬)। চন্দন মিস্ত্রি (রোল: ২৫০১০২০১০)। সুস্ময় তালুকদার (রোল: ২৫০১০২০২১)। অয়ন দাস দ্বীপ (রোল: ২৫০১০২০২৬)। সাফায়েত ইসলাম সিহাব (রোল: ২৫০১০২০৩১)।কাওসার হোসেন সৌরভ (রোল: ২৫০১০২০৩৬)। সিদ্ধার্থ সরকার (রোল: ২৫০১০২০৩৭)। অনিন্দ সাহা অর্থ (রোল: ২৫০১০২০৫১)
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০জন শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।
তারা হলেন, ফারিয়া বিনতে হোসেন ইলমা (রোল: ২৫০৪০৪০০০১)। মাহিম আনোয়ার (রোল: ২৫০৪০৪০০২)। মোঃ রাকিবুল ইসলাম** (রোল: ২৫০৪০৪০০০৩)।ইয়ামিন হোসেন (রোল: ২৫০৪০৪০০০৭)। সুমাঁইয়া আক্তার রিয়া (রোল: ২৫০৪০৪০১৮)। মোঃ নাইম ইসলাম (রোল: ২৫০৪০৪০২৮)। মোঃ আরিফুল ইসলাম (রোল: ২৫০৪০৪০৩২)। সাদিয়া ইসলাম (রোল: ২৫০৪০৪০ ৩৮)। মোঃ ওবায়দুজ্জামান রিফাত (রোল: ২৫০৪০৪০৬১)
আইন বিভাগ থেকে শাস্তি পাওয়া ৫ জন শিক্ষার্থী হলেন:
রুবাইয়া সুলতানা - রাবা (রোল: ২৫০৬০১০০৯)। মোঃ মনজারুল হক (রোল: ২৫০৬০১০১৯)। রেসবুল হাসান আবির(রোল: ২৫০৬০১০৩২)। জয়শ্রী রানী বিশ্বাস (রোল: ২৫০৬০১০৪১)। মোঃ রিদোয়ান চৌধুরী (রোল: ২৫০৬০১০৭২)।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, জরিমানা পরিশোধের সময়সীমা পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে ১ মাস। এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে দ্বিগুনহারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে বলে পত্রতে উল্লেখ করা হয়।
কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন,, "তিনটি ক্যাটাগরিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে—বহিষ্কার অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা। শিক্ষার্থীরা যেন ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ পায়, সেজন্য প্রথমবার জরিমানের বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন," মোট ৪৮জন শিক্ষার্থীকে র্যাগিং এর বিষয়ে শাস্তি দেয়া হয়েছে। র্যাগিংয়ের বিষয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি পলো করছে। প্রাথমিকভাবে চারটি ডিপার্টমেন্টে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে, ঐচারটি ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টদের কে আমরা শাস্তির আওতাভুক্ত করেছি। আর অন্য একটি ডিপার্টমেন্ট তদন্ত রিপোর্টটে স্টুডেন্টের নাম উল্লেখ না করায় আমরা তাদের কে পুনরায় তদন্ত করার জন্য বলেছি। এবং পুনরায় তদন্ত রিপোর্ট নামসহ জমা দিলে আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় আনবো।"