ছবি: যাযাদিডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রাজবাড়ী ইউনিট। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অর্ধদিবসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ শীর্ষক এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রাজবাড়ী ইউনিটের চেয়ারম্যান ও রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে রেড ক্রিসেন্টও এ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। হাসপাতালের বাইরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং মশার প্রজনন হতে পারে, এমন স্থান পরিষ্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজবাড়ী জেলার পাচটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও নির্দেশনা থাকুক বা না থাকুক, রাজবাড়ী রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে অন্তত একবার প্রতিটি হাসপাতালের ড্রেন পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করা হবে। পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত দেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গিয়াস উদ্দিন খান, রাজবাড়ী রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি মো. নজরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য রাজিয়া বেগম, আল-আজম আজাদী ও আঞ্জুমান আরা বেগম এবং ইউনিট লেভেল অফিসার মো. রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা।
পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক বলেন, রেড ক্রিসেন্টের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত ও রোগীবান্ধব পরিবেশে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
যুব রেড ক্রিসেন্ট, রাজবাড়ী ইউনিটের উপ-যুব প্রধান-এক খন্দকার নাসিম রানার নেতৃত্বে যুব কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক অভিযানে অংশ নেন।
অভিযানের শুরুতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায় এবং করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা হয়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা নিয়েও মতবিনিময় করেন রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা।
পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণের ড্রেন ও জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ঝোপঝাড় ও অতিরিক্ত ঘাস-গাছপালা ছাটাই, জমে থাকা পানি ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল অপসারণ এবং অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়।