ছবি: যাযাদিসড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে দ্রুত একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, কার্যকর আইন, যথাযথ প্রয়োগ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
মঙ্গলবার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে উন্নয়ন সংস্থা ‘স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট’ আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘স্ট্রেনদেনিং রোড সেফটি অ্যাক্ট অ্যান্ড সিভিল সোসাইটি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় মুক্তিযোদ্ধা, উন্নয়নকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
স্টেপসের নির্বাহী পরিচালক চন্দন কুমার লাহিড়ীর সঞ্চালনায় কর্মশালার উদ্বোধন করেন শিক্ষক নেতা ও কলামিস্ট অধ্যক্ষ আকমল হোসেন। এতে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল হায়দার মুকুল, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, স্টেপসের সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের পরামর্শক ভূবেন চন্দ্র বিশ্বাস, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলনের (পরিজা) সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল এবং স্টেপসের পরিচালক শাহেদা ফেরদৌসী মুন্নীসহ অন্যরা।
কর্মশালায় মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে সড়ক দুর্ঘটনার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, নিরাপদ গতি, নিরাপদ যানবাহন, ঝুকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-এর আলোকে তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’ দ্রুত পাস করা প্রয়োজন। আইনটির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো, কার্যকর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পক্ষে জনমত গঠন এবং নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।