ছবি: যাযাদিশারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে সারাদেশে দুই লক্ষাধিক আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ে সদস্যদের দায়িত্ব পালন কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করেছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডি সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মহাপরিচালক। তিনি নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।
মহাপরিচালক বলেন, এবারের দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান ও দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হচ্ছে।
যেকোনো ধরনের নাশকতা, অপ্রীতিকর ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মহাপরিচালক আরও বলেন, পূজা উদযাপনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকতে হবে। জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে, যা দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে দুই লক্ষাধিক প্রশিক্ষিত আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যা দুর্গাপূজার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। পূজামণ্ডপের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নির্ধারিত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার ব্যাটালিয়নের ১০৪টি স্ট্রাইকিং টিম টহলে থাকবে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পূজামণ্ডপে আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল নজরদারি, আন্তপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বাহিনীটি আশা প্রকাশ করেছে, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে।